সংক্ষেপে উত্তর
বাংলাদেশিদের কি থাইল্যান্ড যেতে ভিসা লাগে?
হ্যাঁ। বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের থাইল্যান্ড ই-ভিসার জন্য অনলাইনে আবেদন করতে হয়। প্রসেসিংয়ে সাধারণত ৭–১০ কর্মদিবস লাগে। অফিসিয়াল ফি মিলিয়ে জনপ্রতি প্রায় ৳৪,৫০০ লাগে। সর্বোচ্চ ৬০ দিন থাকা যায়। ভিসার মেয়াদ ৯০ দিন। ঢাকায় আবেদন জমা দিতে হয় এখানে: রাজকীয় থাই দূতাবাস, ঢাকা।
সম্প্রতি কী বদলেছে?
- থাইল্যান্ড ৬০ দিনের ভিসামুক্ত সুবিধার বদলে ৩০ ও ১৫ দিনের নতুন তালিকা চালু করেছে এবং অন-অ্যারাইভাল ভিসা তিনটি দেশে সীমিত করেছে। বাংলাদেশ কোনো তালিকায় নেই, তাই বাংলাদেশিদের আগের মতোই ভিসা লাগবে।
- দূতাবাস ই-স্টেটমেন্ট গ্রহণ বন্ধ করেছে: ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও সলভেন্সি সার্টিফিকেট ব্যাংক কর্মকর্তার স্বাক্ষরযুক্ত মূল কপি হতে হবে।
- টাকায় নতুন ভিসা ফি: টুরিস্ট ভিসা ৪,৫০০ টাকা (আগে প্রায় ৪,০০০ টাকা), METV ২২,৫০০ টাকা, ট্রানজিট ৩,৬০০ টাকা। ফি জমার দ্বিতীয় ব্যাংক হিসেবে ইস্টার্ন ব্যাংক যুক্ত হয়েছে।
- শিশুসহ সব বিদেশি যাত্রীর জন্য থাইল্যান্ড ডিজিটাল অ্যারাইভাল কার্ড (TDAC) বাধ্যতামূলক হয়েছে।
- বাংলাদেশের আবেদনকারীদের জন্য থাই ই-ভিসা চালু হয়েছে; ভিসা সেন্টারে কাগজে আবেদন নেওয়া বন্ধ হয়েছে।
থাইল্যান্ড ভিসার জন্য কী কী কাগজ লাগবে?
কাগজ জোগাড় হলে টিক দিন — আপনার অগ্রগতি এই ডিভাইসে সংরক্ষিত থাকবে।
কে আবেদন করছেন?
একটি বেছে নিন, সেই অবস্থার জন্য বাড়তি কাগজগুলো তালিকায় যোগ হবে।
৯টির মধ্যে ০টি প্রস্তুত
থাইল্যান্ড ভিসার খরচ কত?
জনপ্রতি হিসাব। অফিসিয়াল ফি দূতাবাস, ভিসা সেন্টার বা পোর্টালে দিতে হয়; আমাদের সার্ভিস ফি আলাদা।
টুরিস্ট ভিসা (TR), সিঙ্গেল এন্ট্রি
| ফি | জনপ্রতি |
|---|---|
| টুরিস্ট ভিসা, সিঙ্গেল এন্ট্রিঅনলাইনে দিতে হয় | ৳৪,৫০০ |
| ফ্লাইনেক্সট সার্ভিস ফিফ্লাইনেক্সটকে দিতে হয় | জিজ্ঞাসা করুন |
| আমাদের সার্ভিস ফি ছাড়া মোট | ৳৪,৫০০ |
মাল্টিপল এন্ট্রি টুরিস্ট ভিসা (METV)
| ফি | জনপ্রতি |
|---|---|
| টুরিস্ট ভিসা, মাল্টিপল এন্ট্রি (METV)অনলাইনে দিতে হয় | ৳২২,৫০০ |
| ফ্লাইনেক্সট সার্ভিস ফিফ্লাইনেক্সটকে দিতে হয় | জিজ্ঞাসা করুন |
| আমাদের সার্ভিস ফি ছাড়া মোট | ৳২২,৫০০ |
ট্রানজিট ভিসা (TS)
| ফি | জনপ্রতি |
|---|---|
| ট্রানজিট ভিসা, সিঙ্গেল এন্ট্রিঅনলাইনে দিতে হয় | ৳৩,৬০০ |
| ফ্লাইনেক্সট সার্ভিস ফিফ্লাইনেক্সটকে দিতে হয় | জিজ্ঞাসা করুন |
| আমাদের সার্ভিস ফি ছাড়া মোট | ৳৩,৬০০ |
থাইল্যান্ড ভিসার আবেদন কীভাবে করব?
- ১
thaievisa.go.th-এ অ্যাকাউন্ট খুলুন
ইমেইল ঠিকানা দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন; ৩০ মিনিটের মধ্যে অ্যাকাউন্ট চালুর ইমেইল আসবে। আবেদনের সময় আপনাকে থাইল্যান্ডের বাইরে থাকতে হবে।
- ২
আবেদন ফর্ম পূরণ করুন
পাসপোর্ট ইস্যুকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ও ভ্রমণের উদ্দেশ্য নির্বাচন করুন; সিস্টেম নিজেই ভিসার ধরন ঠিক করে দেবে। ব্যক্তিগত ও ভ্রমণের তথ্য পাসপোর্টের সঙ্গে হুবহু মিলিয়ে দিন।
- ৩
কাগজপত্র আপলোড করুন
চেকলিস্টের প্রতিটি কাগজ, বিশেষ করে ব্যাংক স্টেটমেন্ট, সলভেন্সি সার্টিফিকেট ও অনুবাদগুলো স্পষ্ট করে স্ক্যান করে দিন।
- ৪
ব্যাংকে ফি জমা দিন
পেমেন্ট ইনফরমেশন সামারি (PIS) ডাউনলোড করে কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন বা ইস্টার্ন ব্যাংকে দূতাবাসের কর্মদিবসে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে ঠিক ততটাকাই জমা দিন। ভাগ করে বা ভুল অঙ্ক জমা দিলে আবেদন বাতিল হয়, আর ফি ফেরত দেওয়া হয় না। জমার রসিদ আপলোড করুন।
- ৫
দূতাবাসের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করুন
ঢাকার রাজকীয় থাই দূতাবাস ফাইলটি যাচাই করে। বাড়তি কাগজ চেয়ে ইমেইল বা সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকতে পারে, তাই ইনবক্স ও স্প্যাম ফোল্ডার নিয়মিত দেখুন।
- ৬
ই-ভিসা প্রিন্ট করুন এবং যাত্রার আগে TDAC পূরণ করুন
অনুমোদিত ই-ভিসা ইমেইলে আসে; এয়ারলাইন ও ইমিগ্রেশনের জন্য প্রিন্ট করে রাখুন। পৌঁছানোর আগের ৩ দিনের মধ্যে tdac.immigration.go.th-এ বিনা খরচে থাইল্যান্ড ডিজিটাল অ্যারাইভাল কার্ড (TDAC) পূরণ করুন, আর জনপ্রতি অন্তত ২০,০০০ থাই বাথ (বা সমপরিমাণ অন্য মুদ্রা) সঙ্গে রাখুন।
ঢাকায় কোথায় আবেদন করব?
রাজকীয় থাই দূতাবাস, ঢাকা
১৮ ও ২০ মাদানী অ্যাভিনিউ, বারিধারা, ঢাকা ১২১২
আবেদন শুধু অনলাইনে; পাসপোর্ট জমা দিতে হয় না। খোলা রবি–বৃহস্পতিবার, সকাল ৯টা–দুপুর ১টা ও দুপুর ২টা–বিকেল ৫টা। ভিসা সংক্রান্ত জিজ্ঞাসা: ০২-২২২২৯১২৪৮, ০২-৫৮৮১৩২৬১।
থাইল্যান্ড ভিসার আবেদন কেন প্রত্যাখ্যাত হয়?
জাল বা সন্দেহজনক কাগজপত্র
যা করলে সুবিধা হয়: দূতাবাস কাগজপত্র যাচাই করে, আর জাল কাগজ পেলে (এজেন্সির দেওয়া কাগজসহ) ভিসা বাতিল করে। শুধু নিজের নামের আসল কাগজ জমা দিন।
ই-স্টেটমেন্ট বা স্বাক্ষরবিহীন ব্যাংকের কাগজ
যা করলে সুবিধা হয়: নিজের ব্যাংক শাখা থেকে কর্মকর্তার স্বাক্ষর ও সিলসহ মূল স্টেটমেন্ট ও সলভেন্সি সার্টিফিকেট নিন।
কনফার্ম না হওয়া হোটেল বুকিং
যা করলে সুবিধা হয়: থাকার প্রতিটি রাতের জন্য সরাসরি হোটেল বা পরিচিত প্ল্যাটফর্মে কনফার্ম বুকিং করুন।
মেয়াদোত্তীর্ণ ট্রেড লাইসেন্স বা পুরোনো সনদ
যা করলে সুবিধা হয়: আবেদনের আগে ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করুন এবং সাম্প্রতিক তারিখের স্পনসরশিপ লেটার ও সনদ দিন।
ভুল অঙ্কে বা ভাগ করে ফি জমা
যা করলে সুবিধা হয়: PIS-এ লেখা ঠিক অঙ্কটি একবারে জমা দিন। ভুল জমার টাকা ফেরত পাওয়া যায় না।
সরাসরি হাসপাতাল থেকে না নেওয়া অ্যাপয়েন্টমেন্ট
যা করলে সুবিধা হয়: চিকিৎসার জন্য গেলে দালালের মাধ্যমে নয়, সরাসরি থাই হাসপাতাল থেকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার নিন।
থাইল্যান্ড ভিসা নিয়ে মানুষ আর কী জানতে চায়?
না। ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে চালু হওয়া নতুন তালিকাসহ থাইল্যান্ডের ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল ভিসার কোনো তালিকায় বাংলাদেশ নেই। সাধারণ পাসপোর্টধারীদের যাত্রার আগেই thaievisa.go.th থেকে ই-ভিসা নিতে হবে; ঢাকায় চেক-ইনের সময় এয়ারলাইন ভিসা দেখে নেয়।
জনপ্রতি অন্তত ৬০,০০০ টাকা, পরিবারের জন্য ১,২০,০০০ টাকা, যা ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও সলভেন্সি সার্টিফিকেটে দেখাতে হবে। হঠাৎ বড় অঙ্ক জমা নয়, স্টেটমেন্টে নিয়মিত লেনদেন থাকা জরুরি। ব্যাংকের স্বাক্ষরযুক্ত মূল কপি দিন; দূতাবাস এখন আর ই-স্টেটমেন্ট গ্রহণ করে না।
ফি জমার পর সাধারণত ৭ থেকে ১০ কর্মদিবস। দূতাবাস রবি থেকে বৃহস্পতিবার খোলা, তাই শুক্র-শনি ও সরকারি ছুটির দিন হিসাবে ধরা হয় না। বাড়তি কাগজ চাইলে সময় বেশি লাগতে পারে, তাই ফ্লাইটের অন্তত দুই সপ্তাহ আগে আবেদন করুন; ঈদ ও শীতের ছুটির আগে আরও আগে।
না। thaievisa.go.th-এ নিজেই আবেদন করা যায়, আর দূতাবাসও সেটাই উৎসাহিত করে। ফেরতযোগ্য নয় এমন ফি জমার আগে কাগজপত্র যাচাই করাতে চাইলে, অনুবাদ ও নোটারির ব্যবস্থা লাগলে, কিংবা পুরো পরিবারের আবেদন করলে এজেন্সি কাজে আসে। যে-ই সাহায্য করুক, কাগজ অবশ্যই আসল ও নিজের নামে হতে হবে।
থাই ইমিগ্রেশন টুরিস্ট ভিসাধারীদের কাছে জনপ্রতি ২০,০০০ বা পরিবারপ্রতি ৪০,০০০ থাই বাথ দেখতে চাইতে পারে, নগদ বা মার্কিন ডলারের মতো সমপরিমাণ অন্য মুদ্রায়। ১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য নয়। বাংলাদেশ থেকে বৈদেশিক মুদ্রা নেওয়ার নির্ধারিত সীমাও মাথায় রাখুন, বাকিটা আন্তর্জাতিক কার্ডে খরচ করুন।
থাইল্যান্ড ডিজিটাল অ্যারাইভাল কার্ড (TDAC) ১ মে ২০২৫ থেকে কাগজের অ্যারাইভাল কার্ডের জায়গা নিয়েছে। শিশুসহ প্রত্যেক বিদেশি যাত্রীকে পৌঁছানোর আগের ৩ দিনের মধ্যে tdac.immigration.go.th-এ বিনা খরচে এটি পূরণ করতে হয়। টাকা চায় এমন ওয়েবসাইট এড়িয়ে চলুন। ইমিগ্রেশন পার না হয়ে ট্রানজিট করলে TDAC লাগে না।
হ্যাঁ, নতুন করে ই-ভিসার আবেদন করা যায়, তবে আবার ফি দিতে হবে, কারণ ফি ফেরত হয় না। আগে কারণটি ঠিক করুন: ঢাকা থেকে বেশিরভাগ রিফিউজাল হয় ই-স্টেটমেন্ট বা স্বাক্ষরবিহীন ব্যাংকের কাগজ, কনফার্ম না হওয়া হোটেল বুকিং, মেয়াদোত্তীর্ণ ট্রেড লাইসেন্স বা সন্দেহজনক কাগজের কারণে। একই ফাইল দিয়ে আবার আবেদন করলে ফলাফল সাধারণত একই হয়।
না। ভিসা দেওয়া হবে কিনা, সেই সিদ্ধান্ত নেয় কেবল দূতাবাস, হাইকমিশন বা ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। তাই কোনো এজেন্সিই সৎভাবে ভিসার গ্যারান্টি দিতে পারে না। আমরা নিশ্চিত করি যে আপনার ফাইল সম্পূর্ণ, তথ্যগুলো একটার সঙ্গে আরেকটা মেলে এবং অফিসিয়াল চেকলিস্ট অনুযায়ী সাজানো, যাতে প্রত্যাখ্যানের সাধারণ কারণগুলো এড়ানো যায়। বাড়তি টাকার বিনিময়ে “গ্যারান্টি ভিসা”র প্রতিশ্রুতি দিলে সতর্ক থাকুন।
হ্যাঁ। প্রত্যাখ্যানের চিঠি (রিফিউজাল লেটার) আর আগে জমা দেওয়া কাগজপত্র আমাদের পাঠান। দূতাবাস যে কারণ দেখিয়েছে, যেমন আর্থিক প্রমাণ দুর্বল, ভ্রমণের উদ্দেশ্য অস্পষ্ট বা কাগজ অসম্পূর্ণ, সেটি ঠিক করে তারপর নতুন আবেদন করা হয়। একই ফাইল দিয়ে আবার আবেদন করলে ফলাফল সাধারণত একই হয়। আবেদন ফর্মে জানতে চাইলে আগের রিফিউজালের কথা অবশ্যই উল্লেখ করুন; গোপন করলে দীর্ঘ মেয়াদে নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে।
দূতাবাসের নিয়ম যেকোনো সময় বদলাতে পারে। আবেদনের আগে সর্বশেষ চেকলিস্ট নিশ্চিত করতে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।









