সংক্ষেপে উত্তর
বাংলাদেশিদের কি ভারত যেতে ভিসা লাগে?
হ্যাঁ। বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের ভিসা আবেদন কেন্দ্রের (ভিএফএস) মাধ্যমে আবেদন করতে হয়। প্রসেসিংয়ে সাধারণত ৫–১০ কর্মদিবস লাগে। অফিসিয়াল ফি মিলিয়ে জনপ্রতি প্রায় ৳১,৫০০ লাগে। সর্বোচ্চ ৯০ দিন থাকা যায়। ভিসার মেয়াদ ৩৬৫ দিন। ঢাকায় আবেদন জমা দিতে হয় এখানে: আইভ্যাক ঢাকা, যমুনা ফিউচার পার্ক।
সম্প্রতি কী বদলেছে?
- হাইকমিশন টুরিস্ট, মেডিকেল, বিজনেস ও এমপ্লয়মেন্ট ভিসার জন্য ক্যাটাগরিভিত্তিক নতুন কাগজপত্রের তালিকা প্রকাশ করেছে।
- সব আইভ্যাকে সব ধরনের ভিসার জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে সময় (স্লট) দেওয়া শুরু হয়েছে।
- প্রায় দুই বছর সীমিত মেডিকেল ও জরুরি ভিসার পর ভারত পাঁচটি আইভ্যাকে বাংলাদেশিদের টুরিস্ট ভিসার আবেদন আবার চালু করেছে।
- আইভ্যাকের প্রসেসিং ফি সব মিলিয়ে ১,৫০০ টাকা করা হয়েছে।
ভারত ভিসার জন্য কী কী কাগজ লাগবে?
কাগজ জোগাড় হলে টিক দিন — আপনার অগ্রগতি এই ডিভাইসে সংরক্ষিত থাকবে।
কে আবেদন করছেন?
একটি বেছে নিন, সেই অবস্থার জন্য বাড়তি কাগজগুলো তালিকায় যোগ হবে।
৬টির মধ্যে ০টি প্রস্তুত
ভারত ভিসার খরচ কত?
জনপ্রতি হিসাব। অফিসিয়াল ফি দূতাবাস, ভিসা সেন্টার বা পোর্টালে দিতে হয়; আমাদের সার্ভিস ফি আলাদা।
| ফি | জনপ্রতি |
|---|---|
| বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের ভিসা ফি (মওকুফ)দূতাবাসে দিতে হয় | ফ্রি |
| আইভ্যাক প্রসেসিং ফি, সব মিলিয়ে (১০ আগস্ট ২০২৫ থেকে)ভিসা সেন্টারে দিতে হয় | ৳১,৫০০ |
| ফ্লাইনেক্সট সার্ভিস ফিফ্লাইনেক্সটকে দিতে হয় | জিজ্ঞাসা করুন |
| আমাদের সার্ভিস ফি ছাড়া মোট | ৳১,৫০০ |
ভারত ভিসার আবেদন কীভাবে করব?
- ১
অনলাইনে ফর্ম পূরণ করুন
বাংলাদেশের জন্য ভারতের অফিসিয়াল ভিসা ওয়েবসাইটে (indianvisa-bangladesh.nic.in) আবেদন পূরণ করে প্রিন্ট করুন।
- ২
আইভ্যাকের সময় (স্লট) নিন
১ জুলাই ২০২৬ থেকে আইভ্যাক স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরবর্তী খালি সময় দিয়ে দেয়। স্লটের জন্য কোনো টাকা লাগে না: হাইকমিশন সতর্ক করেছে, ফোন বা সামাজিক মাধ্যমে যারা স্লট বিক্রি করে তারা প্রতারক।
- ৩
আইভ্যাকে সশরীরে জমা দিন
কনফার্মেশনে দেওয়া সময়ে মূল পাসপোর্ট ও কাগজপত্র নিয়ে উপস্থিত হয়ে ১,৫০০ টাকা প্রসেসিং ফি দিন। হাইকমিশন সরাসরি বা ইমেইলে আবেদন নেয় না।
- ৪
খোঁজ নিন ও পাসপোর্ট সংগ্রহ করুন
অনলাইনে আবেদনের অবস্থা দেখুন, আর সাধারণত ৫–১০ কর্মদিবস পর একই আইভ্যাক থেকে পাসপোর্ট সংগ্রহ করুন।
- ৫
ভিসায় লেখা বন্দর দিয়ে যাত্রা করুন
ভিসায় যে স্থলবন্দর বা বিমানবন্দরের নাম আছে, সেগুলো দিয়ে যাতায়াত করুন। বেনাপোলে স্থলপথে যাওয়ার ভ্রমণ কর ১,০০০ টাকা।
বাংলাদেশে কোথায় আবেদন করব?
আইভ্যাক ঢাকা, যমুনা ফিউচার পার্ক
ঢাকাফ্লোর জি১, সাউথ কোর্ট, যমুনা ফিউচার পার্ক, প্রগতি সরণি, বারিধারা, ঢাকা ১২২৯
আবেদন সকাল ৯টা–বিকেল ৫টা, পাসপোর্ট ফেরত সকাল ১০টা–বিকেল ৫টা। অন্য চালু আইভ্যাক: চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা ও সিলেট।
আইভ্যাক চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামসিটি সেন্টার, ২য় তলা (২বি), ১৮৭২ সিডিএ অ্যাভিনিউ, পূর্ব নাসিরাবাদ, চট্টগ্রাম
যাওয়ার আগে খোলা আছে কিনা নিশ্চিত হোন: ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে জুন ২০২৬-এ আবার চালু হওয়া পর্যন্ত এই সেন্টার বন্ধ ছিল।
ভারত ভিসার আবেদন কেন প্রত্যাখ্যাত হয়?
জাল ডলার এনডোর্সমেন্ট বা ব্যাংক স্টেটমেন্ট
যা করলে সুবিধা হয়: হাইকমিশন এগুলো সঙ্গে সঙ্গে বাতিল করে। নিজের ব্যাংক থেকে এনডোর্সমেন্ট নিন; মানি চেঞ্জারের এনডোর্সমেন্ট গ্রহণ করা হয় না।
মেয়াদোত্তীর্ণ এনডোর্সমেন্ট বা পুরোনো বিল
যা করলে সুবিধা হয়: জমার দিন এনডোর্সমেন্ট যেন ৩ মাসের আর বিল যেন ৬ মাসের বেশি পুরোনো না হয়।
মেডিকেল ভিসার জন্য অস্বীকৃত হাসপাতাল
যা করলে সুবিধা হয়: অ্যাপয়েন্টমেন্ট হতে হবে সরকারি, আইসিএমআর, এনএবিএইচ, এমসিআই বা সিজিএইচএস স্বীকৃত হাসপাতালের, সঙ্গে বাংলাদেশি চিকিৎসকের রিপোর্ট।
পুরোনো পাসপোর্ট জমা না দেওয়া
যা করলে সুবিধা হয়: আগের সব পাসপোর্ট সঙ্গে নিন; হাইকমিশন এগুলো চায়।
ভারত ভিসা নিয়ে মানুষ আর কী জানতে চায়?
হ্যাঁ। আগস্ট ২০২৪ থেকে মূলত মেডিকেল ও জরুরি ভিসা দেওয়ার পর ২৮ জুন ২০২৬ থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা ও সিলেটের আইভ্যাকে ভারত আবার টুরিস্ট ভিসার আবেদন নিচ্ছে। স্লট সীমিত ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়, তাই আগেভাগে আবেদন করুন; মেডিকেল ভিসাও পাশাপাশি চলছে।
ভারত বাংলাদেশিদের কাছ থেকে কোনো ভিসা ফি নেয় না। শুধু আইভ্যাকের প্রসেসিং ফি দিতে হয়, যা ১০ আগস্ট ২০২৫ থেকে সব মিলিয়ে ১,৫০০ টাকা। হাইকমিশন জানিয়েছে স্লট বা দ্রুত প্রসেসিংয়ের জন্য আর কোনো টাকা লাগে না, আর কেউ বেশি চাইলে সেটি প্রতারণা।
জনপ্রতি ২০০ মার্কিন ডলার, যা মানি চেঞ্জার নয়, ব্যাংক থেকে পাসপোর্টে এনডোর্স করা এবং ৩ মাসের বেশি পুরোনো নয়। এনডোর্সমেন্টের বদলে পর্যাপ্ত ব্যালেন্সসহ ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট, অথবা স্টেটমেন্টসহ আন্তর্জাতিক ক্রেডিট বা ট্রাভেল কার্ডও দেখাতে পারেন।
সাধারণ কাগজপত্রের সঙ্গে বাংলাদেশি চিকিৎসকের রিপোর্ট এবং সরকার, আইসিএমআর, এনএবিএইচ, এমসিআই বা সিজিএইচএস স্বীকৃত ভারতীয় হাসপাতালের অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার। মেডিকেল অ্যাটেনডেন্ট ভিসায় সর্বোচ্চ ৩ জন আপনার সঙ্গে আবেদন করতে পারেন। ভিসায় যে হাসপাতালের নাম আছে, শুধু সেখানেই চিকিৎসা নিতে হবে।
হাইকমিশনের তথ্য অনুযায়ী ভিসার ধরনভেদে আইভ্যাকে জমা দেওয়ার পর ৫–১০ কর্মদিবস। স্লট পেতেও সময় লাগতে পারে, কারণ প্রতিটি সেন্টারের দৈনিক ধারণক্ষমতা অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্লট দেওয়া হয়।
বেনাপোলের মতো স্থলবন্দরে বাংলাদেশ ১,০০০ টাকা ভ্রমণ কর নেয়, যা ২০২৩ সালে ৫০০ টাকা থেকে বাড়ানো হয়েছে। বন্দরের সামান্য সার্ভিস ফি আলাদা নেওয়া হয়। ভারতের ভিসায় যে স্থলবন্দর বা বিমানবন্দরের নাম আছে, শুধু সেগুলো দিয়ে যাতায়াত করুন।
না। ভিসা দেওয়া হবে কিনা, সেই সিদ্ধান্ত নেয় কেবল দূতাবাস, হাইকমিশন বা ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। তাই কোনো এজেন্সিই সৎভাবে ভিসার গ্যারান্টি দিতে পারে না। আমরা নিশ্চিত করি যে আপনার ফাইল সম্পূর্ণ, তথ্যগুলো একটার সঙ্গে আরেকটা মেলে এবং অফিসিয়াল চেকলিস্ট অনুযায়ী সাজানো, যাতে প্রত্যাখ্যানের সাধারণ কারণগুলো এড়ানো যায়। বাড়তি টাকার বিনিময়ে “গ্যারান্টি ভিসা”র প্রতিশ্রুতি দিলে সতর্ক থাকুন।
হ্যাঁ। প্রত্যাখ্যানের চিঠি (রিফিউজাল লেটার) আর আগে জমা দেওয়া কাগজপত্র আমাদের পাঠান। দূতাবাস যে কারণ দেখিয়েছে, যেমন আর্থিক প্রমাণ দুর্বল, ভ্রমণের উদ্দেশ্য অস্পষ্ট বা কাগজ অসম্পূর্ণ, সেটি ঠিক করে তারপর নতুন আবেদন করা হয়। একই ফাইল দিয়ে আবার আবেদন করলে ফলাফল সাধারণত একই হয়। আবেদন ফর্মে জানতে চাইলে আগের রিফিউজালের কথা অবশ্যই উল্লেখ করুন; গোপন করলে দীর্ঘ মেয়াদে নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে।
দূতাবাসের নিয়ম যেকোনো সময় বদলাতে পারে। আবেদনের আগে সর্বশেষ চেকলিস্ট নিশ্চিত করতে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।







