ভ্রমণ ও ভিসা নিয়ে সচরাচর জিজ্ঞাসা
ভ্রমণকারীরা আমাদের যা সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞেস করেন তার দ্রুত উত্তর। আপনার প্রশ্ন না পেলে হোয়াটসঅ্যাপে জানান।
ভিসা
সময়টা দেশভেদে আলাদা। প্রতিটি দূতাবাস নিজস্ব প্রসেসিং টাইম ঠিক করে, আর আমাদের প্রতিটি ভিসা পেজে অফিসিয়াল কর্মদিবস ও সর্বশেষ যাচাইয়ের তারিখ দেওয়া থাকে। এর সঙ্গে কাগজপত্র গোছানো আর অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়ার সময়ও হিসাবে রাখুন। সাধারণত যাত্রার অন্তত এক মাস আগে আবেদন করুন; শেনজেন, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র বা কানাডার ক্ষেত্রে দুই থেকে তিন মাস আগে, কারণ ঢাকায় এসব দেশের অ্যাপয়েন্টমেন্ট আগেভাগেই শেষ হয়ে যায়।
না। ভিসা দেওয়া হবে কিনা, সেই সিদ্ধান্ত নেয় কেবল দূতাবাস, হাইকমিশন বা ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। তাই কোনো এজেন্সিই সৎভাবে ভিসার গ্যারান্টি দিতে পারে না। আমরা নিশ্চিত করি যে আপনার ফাইল সম্পূর্ণ, তথ্যগুলো একটার সঙ্গে আরেকটা মেলে এবং অফিসিয়াল চেকলিস্ট অনুযায়ী সাজানো, যাতে প্রত্যাখ্যানের সাধারণ কারণগুলো এড়ানো যায়। বাড়তি টাকার বিনিময়ে “গ্যারান্টি ভিসা”র প্রতিশ্রুতি দিলে সতর্ক থাকুন।
সার্ভিস চার্জের মধ্যে আছে আপনার প্রোফাইল অনুযায়ী কাগজপত্রের তালিকা, ডকুমেন্ট যাচাই, আবেদন ফর্ম পূরণ ও চেক করা, প্রয়োজন হলে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং এবং জমা দেওয়ার পুরো নির্দেশনা। দূতাবাস, ভিসা সেন্টার ও কুরিয়ারের ফি আলাদা, যা সরাসরি ওই প্রতিষ্ঠানগুলোকে দিতে হয়। আমাদের রিফান্ড নীতি অনুযায়ী, ফাইলের কাজ শুরু হয়ে গেলে সার্ভিস চার্জ ফেরত দেওয়া হয় না।
পাসপোর্ট, ছবি ও ব্যাংক স্টেটমেন্টের পাশাপাশি চাকরিজীবীদের সাধারণত অফিসের এনওসি (NOC) এবং বেতনের প্রমাণ, যেমন স্যালারি সার্টিফিকেট বা পে-স্লিপ লাগে। ব্যবসায়ীদের লাগে নবায়ন করা ট্রেড লাইসেন্স, প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক স্টেটমেন্ট এবং টিআইএন বা রিটার্ন জমার প্রমাণ। শিক্ষার্থীদের লাগে স্টুডেন্ট আইডি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রত্যয়নপত্র, সঙ্গে অভিভাবকের স্পনসরশিপ লেটার ও ব্যাংক স্টেটমেন্ট। নির্দিষ্ট দেশের পুরো তালিকা সেই দেশের ভিসা পেজে পাবেন।
সব দেশের জন্য নির্দিষ্ট কোনো অঙ্ক নেই; প্রতিটি দেশ নিজস্ব নিয়ম ঠিক করে। কোনো দূতাবাস ন্যূনতম ব্যালেন্স উল্লেখ করলে সেটি ওই দেশের ভিসা পেজে দেওয়া আছে। তবে শুধু ব্যালেন্স নয়, দূতাবাস দেখে গত ছয় মাসের লেনদেন: নিয়মিত আয়, স্বাভাবিক খরচ, আর আবেদনের ঠিক আগে হঠাৎ বড় অঙ্ক জমা হয়েছে কিনা। ব্যাখ্যা ছাড়া হঠাৎ জমা করা টাকা ভিসা প্রত্যাখ্যানের একটি সাধারণ কারণ।
হ্যাঁ। প্রত্যাখ্যানের চিঠি (রিফিউজাল লেটার) আর আগে জমা দেওয়া কাগজপত্র আমাদের পাঠান। দূতাবাস যে কারণ দেখিয়েছে, যেমন আর্থিক প্রমাণ দুর্বল, ভ্রমণের উদ্দেশ্য অস্পষ্ট বা কাগজ অসম্পূর্ণ, সেটি ঠিক করে তারপর নতুন আবেদন করা হয়। একই ফাইল দিয়ে আবার আবেদন করলে ফলাফল সাধারণত একই হয়। আবেদন ফর্মে জানতে চাইলে আগের রিফিউজালের কথা অবশ্যই উল্লেখ করুন; গোপন করলে দীর্ঘ মেয়াদে নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে।
সাধারণত না। বেশিরভাগ দূতাবাস আবেদনের সঙ্গে ফ্লাইট রিজারভেশন (বুকিং করা যাত্রাসূচি) গ্রহণ করে, এবং ভিসা হওয়ার আগে টিকিটের টাকা পরিশোধ না করারই পরামর্শ দেয়। তবে কয়েকটি দেশ কনফার্ম টিকিট চায়, তাই সংশ্লিষ্ট দেশের পেজটি দেখে নিন। আমাদের এয়ার টিকিট টিম আপনার ফাইলের জন্য রিজারভেশন করে দিতে পারে, আর ভিসা হয়ে গেলে টিকিট ইস্যু করে দেয়।
হ্যাঁ। হোয়াটসঅ্যাপে কাগজপত্রের স্পষ্ট স্ক্যান পাঠিয়ে শুরু করতে পারেন; আমরা যাচাই করে জানিয়ে দেব কী কী বাকি আছে। থাইল্যান্ডের মতো ই-ভিসার পুরো আবেদন অনলাইনে হয়, তাই ঢাকায় আসার দরকার নেই। যেসব দূতাবাস বা ভিসা সেন্টারে আঙুলের ছাপ (বায়োমেট্রিক) দিতে হয় বা মূল পাসপোর্ট জমা দিতে হয়, সেক্ষেত্রে আপনাকে বা আপনার পাসপোর্টকে ঢাকায় আসতে হবে; সেই দিনটি আমরা আপনার সঙ্গে মিলিয়ে ঠিক করে দিই।
ফ্লাইট
সাধারণত ৬–৮ সপ্তাহ আগে টিকিট কাটলে আর ব্যস্ত মৌসুম এড়িয়ে ভ্রমণ করলে। দুই ঈদের আগে, স্কুল ছুটির সময় ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে জানুয়ারির শুরু পর্যন্ত এবং ওমরাহর ভিড়ের সময় ঢাকা থেকে ভাড়া অনেক বেড়ে যায়। বৃহস্পতি ও শুক্রবারের চেয়ে সপ্তাহের মাঝের ফ্লাইটে ভাড়া প্রায়ই কম থাকে। ভাড়া প্রতিদিন বদলায়, তাই আমরা তাৎক্ষণিক ভাড়া জানাই এবং এয়ারলাইন যতক্ষণ অনুমতি দেয় ততক্ষণই তা ধরে রাখা যায়।
তারিখ পরিবর্তন প্রায়ই সম্ভব, তবে তা টিকিটের ফেয়ার রুলসের ওপর নির্ভর করে: বেশিরভাগ টিকিটে পরিবর্তন ফি ও ভাড়ার পার্থক্য দিতে হয়, আর সবচেয়ে সস্তা টিকিটে কোনো পরিবর্তনই নাও করা যেতে পারে। টিকিট অন্য কারও নামে বদলানো যায় না; এয়ারলাইন বড়জোর ছোটখাটো বানান সংশোধনের সুযোগ দেয়। তাই পরিশোধের আগে আমরা আপনার সঙ্গে ফেয়ার রুলস মিলিয়ে দেখি এবং পাসপোর্টে যেভাবে লেখা, ঠিক সেভাবে নাম চাই।
হ্যাঁ। বেশিরভাগ দূতাবাস আবেদনের সঙ্গে কনফার্ম ফ্লাইট রিজারভেশন গ্রহণ করে, এবং ভিসা হওয়ার আগে টিকিট না কেনারই পরামর্শ দেয়। আমরা এয়ারলাইনের সিস্টেমে আপনার নামে আসল বুকিং করে দিই, যা এয়ারলাইনের নির্ধারিত সময় পর্যন্ত বহাল থাকে, আর ভিসা হয়ে গেলে টিকিট ইস্যু করি। জাল বা এডিট করা যাত্রাসূচি আমরা দিই না, কারণ দূতাবাস এগুলো যাচাই করে।
এটি এয়ারলাইন, রুট ও কোন ধরনের ভাড়া বেছে নিচ্ছেন তার ওপর নির্ভর করে, আর টিকিটেই লেখা থাকে। ঢাকা থেকে ফুল-সার্ভিস এয়ারলাইনের ভাড়ায় সাধারণত চেকড ব্যাগেজ থাকে, কিন্তু অনেক লো-কস্ট ভাড়ায় শুধু ছোট একটি কেবিন ব্যাগ থাকে, চেকড ব্যাগেজ কিনতে হয় আলাদা। বিমানবন্দরে দেওয়ার চেয়ে আগেভাগে বাড়তি ব্যাগেজ কিনলে খরচ অনেক কম, তাই কেনাকাটার পরিকল্পনা থাকলে আমাদের জানান।
পাসপোর্ট (বেশিরভাগ দেশের জন্য অন্তত ছয় মাস মেয়াদ), গন্তব্য দেশের ভিসা বা ই-ভিসার প্রিন্ট, আর টিকিট। বোর্ডিং পাস দেওয়ার আগে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এয়ারলাইন রিটার্ন টিকিট এবং অনেক দেশের ক্ষেত্রে হোটেল বুকিংও দেখে। ফ্লাইটের তিন ঘণ্টা আগে পৌঁছান, আর থাইল্যান্ডের TDAC-এর মতো অনলাইন অ্যারাইভাল কার্ড থাকলে যাত্রার আগেই পূরণ করে নিন।
ট্যুর ও প্যাকেজ
প্রতিটি প্যাকেজ পেজে একটি টেবিলে কী কী আছে আর কী নেই, তা দেওয়া থাকে। আমাদের বেশিরভাগ হলিডে প্যাকেজে থাকে নাশতাসহ হোটেল, এয়ারপোর্ট ও এক শহর থেকে আরেক শহরের ট্রান্সফার এবং উল্লেখ করা ট্যুরগুলো; দাম দেওয়া থাকে ফ্লাইটসহ ও ফ্লাইট ছাড়া দুইভাবেই। ভিসা ফি, বেশিরভাগ দুপুর ও রাতের খাবার, ঐচ্ছিক অ্যাক্টিভিটি ও টিপস সাধারণত আলাদা। আপনার তারিখের লিখিত কোটেশনেও এসব আবার উল্লেখ থাকে, যাতে পরে কোনো অপ্রত্যাশিত খরচ না আসে।
সাধারণত না। দূতাবাস বা ই-ভিসা পোর্টালের অফিসিয়াল ভিসা ফি আলাদা দিতে হয়, আর প্রতিটি প্যাকেজ পেজে তা উল্লেখ থাকে, যেমন থাইল্যান্ড ই-ভিসার জন্য ৪,৫০০ টাকা। আমরা আপনার কাগজপত্র যাচাই করে আবেদন প্রস্তুত করতে সাহায্য করি। ভিসা প্রত্যাখ্যাত হলে ভিসা ফি ফেরত পাওয়া যায় না, আর হোটেল, ফ্লাইট ও ট্যুর বাতিল হয় আমাদের রিফান্ড ও বাতিলকরণ নীতি অনুযায়ী।
হ্যাঁ। প্রকাশিত প্যাকেজগুলো শুরু করার একটি কাঠামো: ভ্রমণের তারিখ বদলানো, রাত বাড়ানো, ট্যুর পরিবর্তন, হোটেল আপগ্রেড বা শিশুদের জন্য রুম যোগ করা যায়। তারিখ, কতজন প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশু যাচ্ছেন আর আপনার বাজেট জানান; আমরা টাকায় পুরো দামসহ লিখিত কোটেশন পাঠাব।
কারণ চাহিদা বাড়লে বিমান ভাড়া ও হোটেলের দামও বাড়ে। ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস থেকে জানুয়ারির শুরু পর্যন্ত স্কুল বন্ধ থাকে আর অনেক পরিবার একসঙ্গে ভ্রমণ করে; দুই ঈদের ছুটিতেও একই অবস্থা হয়। আমাদের প্যাকেজের দাম কোন তারিখের জন্য প্রযোজ্য তা উল্লেখ থাকে, আর ব্যস্ত সময়ের জন্য আলাদা কোটেশন দেওয়া হয়। ছয় থেকে আট সপ্তাহ আগে বুক করলে খরচ কম থাকে।
তারিখ ও যাত্রীর সংখ্যা জানিয়ে জিজ্ঞাসা পাঠান বা হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দিন। আমরা লিখিত কোটেশন পাঠাব; আপনি রাজি হয়ে বুকিংয়ের অগ্রিম জমা দিলে হোটেল ও ট্যুর নিশ্চিত করা হয়। বিমান টিকিট ইস্যুর আগে বাকি টাকা পরিশোধ করতে হয়। পাসপোর্টের মেয়াদ অন্তত ছয় মাস রাখুন আর ভিসার কাজ আগেভাগে শুরু করুন, কারণ বুকিং এর ওপর নির্ভর করে।
পেমেন্ট ও বুকিং
এমএফএস (মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস), ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড, অথবা FlyNext-এর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার বা জমা দিয়ে পরিশোধ করতে পারেন; আমাদের অফিসে নগদেও দেওয়া যায়। কোটেশনের সঙ্গেই পেমেন্টের বিস্তারিত পাঠানো হয়, আর প্রতিটি পরিশোধের রসিদ দেওয়া হয়। কিছু অফিসিয়াল ফি সরাসরি দূতাবাস বা ই-ভিসা পোর্টালে দিতে হয়, যেমন থাইল্যান্ডের ফি নির্ধারিত ব্যাংকে আর মালয়েশিয়ার ফি অনলাইনে কার্ডে; কোনটি কীভাবে দিতে হবে, তা আমরা আগেই জানিয়ে দিই।
আরও প্রশ্ন আছে?
আমাদের টিম হোয়াটসঅ্যাপ ও ফোনে দ্রুত উত্তর দেয়।