সংক্ষেপে উত্তর
বাংলাদেশিদের কি মালয়েশিয়া যেতে ভিসা লাগে?
হ্যাঁ। বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের মালয়েশিয়া ই-ভিসার জন্য অনলাইনে আবেদন করতে হয়। প্রসেসিংয়ে সাধারণত ২–৭ কর্মদিবস লাগে। অফিসিয়াল ফি মিলিয়ে জনপ্রতি প্রায় ৳৩,১০০ লাগে। সর্বোচ্চ ৩০ দিন থাকা যায়। ঢাকায় আবেদন জমা দিতে হয় এখানে: মালয়েশিয়া হাইকমিশন, ঢাকা।
সম্প্রতি কী বদলেছে?
- মালয়েশিয়া ই-ভিসার শর্তাবলি হালনাগাদ করেছে: সিঙ্গেল এন্ট্রি ই-ভিসায় এখন ইস্যুর ৬ মাসের মধ্যে একবার প্রবেশ করা যায়, আর যাত্রার অন্তত ১৪ দিন আগে আবেদন করতে হবে।
- ঢাকার মালয়েশিয়া হাইকমিশন জানিয়েছে, ফি পরিশোধের পর ই-ভিসা প্রসেস হতে ২–৭ কর্মদিবস লাগে, এবং যাত্রার অন্তত ৩০ দিন আগে আবেদনের পরামর্শ দিয়েছে।
- কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (KLIA) এক অভিযানে ১৯৮ জন বিদেশিকে প্রবেশ করতে দেয়নি ইমিগ্রেশন, যার ১২৩ জন বাংলাদেশি। কারণ: অপর্যাপ্ত অর্থ, হোটেল বুকিং না থাকা বা ভ্রমণের উদ্দেশ্য অস্পষ্ট।
মালয়েশিয়া ভিসার জন্য কী কী কাগজ লাগবে?
কাগজ জোগাড় হলে টিক দিন — আপনার অগ্রগতি এই ডিভাইসে সংরক্ষিত থাকবে।
কে আবেদন করছেন?
একটি বেছে নিন, সেই অবস্থার জন্য বাড়তি কাগজগুলো তালিকায় যোগ হবে।
৭টির মধ্যে ০টি প্রস্তুত
মালয়েশিয়া ভিসার খরচ কত?
জনপ্রতি হিসাব। অফিসিয়াল ফি দূতাবাস, ভিসা সেন্টার বা পোর্টালে দিতে হয়; আমাদের সার্ভিস ফি আলাদা।
সিঙ্গেল এন্ট্রি ই-ভিসা (সোশ্যাল ভিজিট)
| ফি | জনপ্রতি |
|---|---|
| ভিসা ফিঅনলাইনে দিতে হয় | ≈ ৳৬০০MYR ২০ |
| ই-ভিসা প্রসেসিং চার্জঅনলাইনে দিতে হয় | ≈ ৳২,৫০০MYR ১০৫ |
| ফ্লাইনেক্সট সার্ভিস ফিফ্লাইনেক্সটকে দিতে হয় | জিজ্ঞাসা করুন |
| আমাদের সার্ভিস ফি ছাড়া মোট | ≈ ৳৩,১০০ |
ট্রানজিট ভিসা
| ফি | জনপ্রতি |
|---|---|
| ই-ভিসা প্রসেসিং চার্জঅনলাইনে দিতে হয় | ≈ ৳২,৫০০MYR ১০৫ |
| ট্রানজিট ভিসা ফিঅনলাইনে দিতে হয় | ≈ ৳৬০০MYR ২০ |
| ফ্লাইনেক্সট সার্ভিস ফিফ্লাইনেক্সটকে দিতে হয় | জিজ্ঞাসা করুন |
| আমাদের সার্ভিস ফি ছাড়া মোট | ≈ ৳৩,১০০ |
মালয়েশিয়া ভিসার আবেদন কীভাবে করব?
- ১
malaysiavisa.imi.gov.my-এ সাইন আপ করুন
Individual নির্বাচন করে Sign Up করুন। ইমেইলে একটি অস্থায়ী পাসওয়ার্ড আসবে; লগইন করে সেটি বদলে নিন। এটিই একমাত্র অফিসিয়াল ই-ভিসা ওয়েবসাইট, তাই দেখতে একই রকম অন্য সাইট এড়িয়ে চলুন।
- ২
আবেদন পূরণ করে কাগজপত্র আপলোড করুন
সোশ্যাল ভিজিট সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসা বেছে নিন। একই ঘরের একাধিক পাতা একটি ফাইলে মিলিয়ে দিন, আর প্রতিটি স্ক্যান যেন স্পষ্ট হয়। এক অ্যাকাউন্টে সর্বোচ্চ ৫ জনের আবেদন করা যায়, যা পরিবারের জন্য সুবিধাজনক।
- ৩
অনলাইনে ফি পরিশোধ করুন
কার্ডে ১২৫ রিঙ্গিত (ভিসা ফি ও প্রসেসিং চার্জ) এবং সামান্য কনভেনিয়েন্স চার্জ পরিশোধ করুন। আগে সব তথ্য মিলিয়ে নিন: পরিশোধের আগে সংশোধন করা যায়, কিন্তু ভিসা ইস্যুর পর ভুল ধরা পড়লে নতুন করে আবেদন করতে হয়। ফি ফেরত দেওয়া হয় না।
- ৪
কোনো কিছু চাইলে ৫ দিনের মধ্যে জবাব দিন
অ্যাকাউন্টে আবেদনের অবস্থা দেখুন। Document Submission Required বা Interview Requested দেখালে ৫ দিনের মধ্যে জবাব দিন; না দিলে আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়।
- ৫
ই-ভিসা ডাউনলোড করুন এবং MDAC পূরণ করুন
অনুমোদনের পর ই-ভিসা ডাউনলোড করে A4 কাগজে প্রিন্ট করুন। যাত্রার আগে, পৌঁছানোর আগের ৩ দিনের মধ্যে imigresen-online.imi.gov.my/mdac-এ বিনা খরচে মালয়েশিয়া ডিজিটাল অ্যারাইভাল কার্ড (MDAC) পূরণ করুন।
ঢাকায় কোথায় আবেদন করব?
মালয়েশিয়া হাইকমিশন, ঢাকা
বাড়ি ১৯, রোড ৬, বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক এনক্লেভ, ঢাকা
টুরিস্ট ভিসার আবেদন অনলাইনে হয়; হাইকমিশনে যেতে হয় না। খোলা রবি–বৃহস্পতিবার, সকাল ৮টা ৩০ মিনিট–বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট (দুপুরের বিরতি ১২টা ৩০–১টা ৩০)। ভিসা সংক্রান্ত জিজ্ঞাসা: +৮৮০ ২ ৪১০৮ ১৯১৮, dhaka@imi.gov.my।
মালয়েশিয়া ভিসার আবেদন কেন প্রত্যাখ্যাত হয়?
ঝাপসা বা ভুল মাপের আপলোড
যা করলে সুবিধা হয়: নির্ধারিত মাপের স্টুডিও ছবি দিন, আর কাগজপত্র রঙিন ও পড়ার মতো স্পষ্ট করে স্ক্যান করুন।
কাগজ বা সাক্ষাৎকারের অনুরোধে সাড়া না দেওয়া
যা করলে সুবিধা হয়: আবেদনের পর প্রতিদিন ইমেইল ও পোর্টাল দেখুন; ৫ দিন পেরোলে আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়।
দুর্বল আর্থিক প্রমাণ
যা করলে সুবিধা হয়: হঠাৎ জমা করা বড় অঙ্ক নয়, নিয়মিত আয়সহ ৬ মাসের স্টেটমেন্ট দেখান। অপর্যাপ্ত অর্থের কারণে কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে বাংলাদেশিদের প্রবেশ ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
হোটেল বুকিং না থাকা বা ভুয়া বুকিং
যা করলে সুবিধা হয়: প্রতিটি রাতের জন্য আসল হোটেল বুক করে পরিশোধ করুন। ভুয়া বুকিংয়ের কারণে বিমানবন্দর থেকে যাত্রীদের ফেরত পাঠানো হয়েছে।
ভ্রমণের উদ্দেশ্য অস্পষ্ট
যা করলে সুবিধা হয়: কভার লেটারে ভ্রমণের উদ্দেশ্য পরিষ্কার লিখুন, আর টিকিট, হোটেল ও ছুটির তারিখ যেন একে অপরের সঙ্গে মেলে।
মালয়েশিয়া ভিসা নিয়ে মানুষ আর কী জানতে চায়?
না। সাধারণ বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের যাত্রার আগেই ই-ভিসা নিতে হবে; eNTRI সুবিধা শুধু ভারত ও চীনের নাগরিকদের জন্য। কেবল বাংলাদেশি কূটনৈতিক ও অফিসিয়াল পাসপোর্টে ৩০ দিন পর্যন্ত ভিসা ছাড়া যাওয়া যায়। আবেদন করুন malaysiavisa.imi.gov.my-এ।
প্রায় ৩,১০০ টাকা: ২০ রিঙ্গিত ভিসা ফি (প্রায় ৬০০ টাকা) ও ১০৫ রিঙ্গিত ই-ভিসা প্রসেসিং চার্জ (প্রায় ২,৫০০ টাকা), যা অনলাইনে কার্ডে পরিশোধ করতে হয়, সঙ্গে কার্ডে ০.৮% চার্জ। টাকার সঠিক অঙ্ক কার্ডের বিনিময় হারের ওপর নির্ভর করে। ভিসা না হলে কোনো টাকা ফেরত দেওয়া হয় না।
সম্পূর্ণ আবেদন জমা ও ফি পরিশোধের পর সাধারণত ২ থেকে ৭ কর্মদিবস। সাপ্তাহিক ছুটি, মালয়েশিয়ার সরকারি ছুটি এবং বাড়তি কাগজ বা সাক্ষাৎকারের অনুরোধে সাড়া দেওয়ার সময় এর মধ্যে ধরা হয় না। ই-ভিসার নিয়মে যাত্রার অন্তত ১৪ দিন আগে আবেদন করতে বলা হয়েছে; ঢাকার হাইকমিশন ৩০ দিন আগে আবেদনের পরামর্শ দেয়, যা বেশি নিরাপদ।
মালয়েশিয়া কোনো ন্যূনতম অঙ্ক প্রকাশ করেনি। ব্যালেন্স এমন হওয়া উচিত যাতে টিকিট, হোটেল ও দৈনিক খরচ স্বচ্ছন্দে চলে, আর তা নিয়মিত লেনদেনসহ ৬ মাসের স্টেটমেন্ট ও সলভেন্সি সার্টিফিকেটে দেখাতে হবে। আবেদনের ঠিক আগে হঠাৎ বড় অঙ্ক জমা হলে ই-ভিসায় ও বিমানবন্দরে—দুই জায়গাতেই প্রশ্ন ওঠে।
ই-ভিসা থাকলেই প্রবেশ নিশ্চিত নয়; সিদ্ধান্ত নেন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা। পর্যাপ্ত অর্থ না থাকা, আসল হোটেল বুকিং না থাকা, ভুয়া বুকিং বা ভ্রমণের উদ্দেশ্য অস্পষ্ট হওয়ার কারণে যাত্রীদের ফেরত পাঠানো হয়েছে। প্রিন্ট করা ই-ভিসা, রিটার্ন টিকিট, পরিশোধিত হোটেল বুকিং, ব্যাংক স্টেটমেন্ট এবং পর্যাপ্ত নগদ অর্থ বা আন্তর্জাতিক কার্ড সঙ্গে রাখুন।
হ্যাঁ। ই-ভিসা পোর্টাল নিজে আবেদন করতেই উৎসাহিত করে, আর malaysiavisa.imi.gov.my-ই একমাত্র অফিসিয়াল সাইট। ফেরতযোগ্য নয় এমন ফি দেওয়ার আগে কাগজপত্র ও কভার লেটার যাচাই করাতে চাইলে, বা পুরো পরিবারের আবেদন করলে এজেন্সি কাজে আসে। ভিসার গ্যারান্টি দেয় বা ব্যবহার করবেন না এমন হোটেল বুকিং ধরিয়ে দেয়, এমন কাউকে কখনো টাকা দেবেন না।
মালয়েশিয়া ডিজিটাল অ্যারাইভাল কার্ড (MDAC) একটি বিনা খরচের অনলাইন ফর্ম, যা প্রত্যেক বিদেশি যাত্রীকে পৌঁছানোর আগে imigresen-online.imi.gov.my/mdac-এ পূরণ করতে হয়। পৌঁছানোর আগের ৩ দিনের মধ্যে জমা দিন, আর ইমিগ্রেশনের জন্য কনফার্মেশন ইমেইলটি ফোনে রেখে দিন।
না। ভিসা দেওয়া হবে কিনা, সেই সিদ্ধান্ত নেয় কেবল দূতাবাস, হাইকমিশন বা ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। তাই কোনো এজেন্সিই সৎভাবে ভিসার গ্যারান্টি দিতে পারে না। আমরা নিশ্চিত করি যে আপনার ফাইল সম্পূর্ণ, তথ্যগুলো একটার সঙ্গে আরেকটা মেলে এবং অফিসিয়াল চেকলিস্ট অনুযায়ী সাজানো, যাতে প্রত্যাখ্যানের সাধারণ কারণগুলো এড়ানো যায়। বাড়তি টাকার বিনিময়ে “গ্যারান্টি ভিসা”র প্রতিশ্রুতি দিলে সতর্ক থাকুন।
হ্যাঁ। প্রত্যাখ্যানের চিঠি (রিফিউজাল লেটার) আর আগে জমা দেওয়া কাগজপত্র আমাদের পাঠান। দূতাবাস যে কারণ দেখিয়েছে, যেমন আর্থিক প্রমাণ দুর্বল, ভ্রমণের উদ্দেশ্য অস্পষ্ট বা কাগজ অসম্পূর্ণ, সেটি ঠিক করে তারপর নতুন আবেদন করা হয়। একই ফাইল দিয়ে আবার আবেদন করলে ফলাফল সাধারণত একই হয়। আবেদন ফর্মে জানতে চাইলে আগের রিফিউজালের কথা অবশ্যই উল্লেখ করুন; গোপন করলে দীর্ঘ মেয়াদে নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে।
দূতাবাসের নিয়ম যেকোনো সময় বদলাতে পারে। আবেদনের আগে সর্বশেষ চেকলিস্ট নিশ্চিত করতে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।












