সংক্ষেপে উত্তর
বাংলাদেশিদের কি সিঙ্গাপুর যেতে ভিসা লাগে?
হ্যাঁ। বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের সিঙ্গাপুর ই-ভিসার জন্য অনলাইনে আবেদন করতে হয়। প্রসেসিংয়ে সাধারণত কমপক্ষে ৫ কর্মদিবস লাগে। অফিসিয়াল ফি মিলিয়ে জনপ্রতি প্রায় ৳৪,১৩০ লাগে। থাকার মেয়াদ: পৌঁছানোর পর ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা নির্ধারণ করেন। ঢাকায় আবেদন জমা দিতে হয় এখানে: সিঙ্গাপুর হাইকমিশন, ঢাকা।
সম্প্রতি কী বদলেছে?
- ঢাকার সিঙ্গাপুর হাইকমিশন ভিসা পেজ হালনাগাদ করেছে: প্রসেসিংয়ে এখন অন্তত ৫ কর্মদিবস লাগে, সঙ্গে ২১টি অনুমোদিত ভিসা এজেন্টের নতুন তালিকা।
- সিঙ্গাপুর নো-বোর্ডিং ডিরেক্টিভ চালু করেছে: বৈধ ভিসা, SG Arrival Card বা ৬ মাস মেয়াদি পাসপোর্ট না থাকলে যাত্রীকে বিমানে না তুলতে এয়ারলাইনকে নির্দেশ দেওয়া যায়।
সিঙ্গাপুর ভিসার জন্য কী কী কাগজ লাগবে?
কাগজ জোগাড় হলে টিক দিন — আপনার অগ্রগতি এই ডিভাইসে সংরক্ষিত থাকবে।
কে আবেদন করছেন?
একটি বেছে নিন, সেই অবস্থার জন্য বাড়তি কাগজগুলো তালিকায় যোগ হবে।
৭টির মধ্যে ০টি প্রস্তুত
সিঙ্গাপুর ভিসার খরচ কত?
জনপ্রতি হিসাব। অফিসিয়াল ফি দূতাবাস, ভিসা সেন্টার বা পোর্টালে দিতে হয়; আমাদের সার্ভিস ফি আলাদা।
| ফি | জনপ্রতি |
|---|---|
| ভিসা ফি (ICA), টাকায় পরিশোধযোগ্যদূতাবাসে দিতে হয় | ≈ ৳২,৮৩০SGD ৩০ |
| অনুমোদিত এজেন্টের সার্ভিস চার্জ (এজেন্টভেদে ভিন্ন) | ৳১,৩০০ |
| ফ্লাইনেক্সট সার্ভিস ফিফ্লাইনেক্সটকে দিতে হয় | জিজ্ঞাসা করুন |
| আমাদের সার্ভিস ফি ছাড়া মোট | ≈ ৳৪,১৩০ |
সিঙ্গাপুর ভিসার আবেদন কীভাবে করব?
- ১
একটি অনুমোদিত ভিসা এজেন্ট বেছে নিন
হাইকমিশন শুধু ঢাকার ২১টি অনুমোদিত এজেন্টের মাধ্যমে আবেদন নেয়, যাদের তালিকা হাইকমিশনের ওয়েবসাইটে আছে। এজেন্ট অনলাইনে আবেদন জমা দেন এবং স্থানীয় যোগাযোগকারীর চিঠির ব্যবস্থা করেন।
- ২
ফর্ম 14A পূরণ করে কাগজপত্র গুছিয়ে নিন
ফর্ম 14A-তে স্বাক্ষর করুন, নির্ধারিত মাপে ছবি তুলুন, আর পাসপোর্টের কপি, ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও চাকরি বা ব্যবসার কাগজ সংগ্রহ করুন।
- ৩
জমা দিন ও ফি পরিশোধ করুন
এজেন্টের কাছে ফাইল জমা দিয়ে ৩০ সিঙ্গাপুর ডলারের সমপরিমাণ টাকা ভিসা ফি ও এজেন্টের সার্ভিস চার্জ পরিশোধ করুন। ভিসা না হলে কোনোটিই ফেরত দেওয়া হয় না।
- ৪
অন্তত ৫ কর্মদিবস অপেক্ষা করুন
জমা দেওয়ার পরের দিন থেকে গণনা শুরু। কাগজ অসম্পূর্ণ হলে বা ব্যস্ত সময়ে বেশি দিন লাগে।
- ৫
ই-ভিসা প্রিন্ট করুন এবং SG Arrival Card জমা দিন
অনুমোদিত ই-ভিসা প্রিন্ট করে রাখুন; এয়ারলাইন ও বহির্গমন ইমিগ্রেশন তা দেখতে চাইতে পারে। পৌঁছানোর আগের ৩ দিনের মধ্যে ICA ওয়েবসাইট বা MyICA অ্যাপে বিনা খরচে SG Arrival Card জমা দিন।
ঢাকায় কোথায় আবেদন করব?
সিঙ্গাপুর হাইকমিশন, ঢাকা
ভেনচুরা অ্যাভিনিউ, ৫ম তলা, ৮/বি গুলশান অ্যাভিনিউ, গুলশান, ঢাকা ১২১২
হাইকমিশন নিজের কাউন্টারে ভিসার আবেদন নেয় না: ভিসা পেজে তালিকাভুক্ত গুলশান, বনানী, মতিঝিল, ধানমন্ডি, মিরপুর ও উত্তরার অনুমোদিত এজেন্টদের মাধ্যমে আবেদন করুন।
সিঙ্গাপুর ভিসার আবেদন কেন প্রত্যাখ্যাত হয়?
প্রত্যাখ্যানের কারণ জানানো হয় না
যা করলে সুবিধা হয়: ICA বা হাইকমিশন কেউই প্রত্যাখ্যানের কারণ জানায় না। এজেন্টের মাধ্যমে, অথবা ১ মাসের মধ্যে সরাসরি ICA-তে আপিল করা যায়; সাধারণত প্রায় ১৪ কর্মদিবস লাগে।
একই কাগজ দিয়ে আবার আবেদন
যা করলে সুবিধা হয়: ICA-এর ভাষ্য, নতুন তথ্য বা কাগজ ছাড়া ফলাফল বদলাবে না। আগে ফাইলটি শক্ত করুন।
আয় বা ভ্রমণের তথ্যে অমিল
যা করলে সুবিধা হয়: ফর্ম 14A-তে লেখা আয় যেন ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও চাকরির কাগজের সঙ্গে মেলে, আর হোটেলের আসল ঠিকানা দিন।
পাসপোর্টের মেয়াদ ৬ মাসের কম
যা করলে সুবিধা হয়: আগে পাসপোর্ট নবায়ন করুন: ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে প্রবেশের শর্ত পূরণ না করা যাত্রীদের বিমানে না তুলতে এয়ারলাইনকে নির্দেশ দেওয়া যায়।
সিঙ্গাপুর ভিসা নিয়ে মানুষ আর কী জানতে চায়?
না। বাংলাদেশ থেকে আবেদন করতে হয় ঢাকায় হাইকমিশনের ২১টি অনুমোদিত ভিসা এজেন্টের যেকোনো একটির মাধ্যমে, অনলাইনে; তালিকা হাইকমিশনের ওয়েবসাইটে আছে। এজেন্ট ফাইল জমা দেন, স্থানীয় যোগাযোগকারীর চিঠির (ফর্ম V39A) ব্যবস্থা করেন, আর ৩০ সিঙ্গাপুর ডলার ভিসা ফির বাইরে সার্ভিস চার্জ নেন।
হ্যাঁ। ফর্ম 14A, ছবি, ব্যাংক স্টেটমেন্ট এবং চাকরি বা ব্যবসার কাগজসহ পুরো ফাইল আমরা নিজেরাই প্রস্তুত ও যাচাই করি, যাতে আয় ও ভ্রমণের তথ্য একে অপরের সঙ্গে মেলে। এরপর নিয়ম অনুযায়ী হাইকমিশনের একজন অনুমোদিত ভিসা এজেন্টের মাধ্যমে আবেদন জমা দেওয়া হয়, আর ই-ভিসা না আসা পর্যন্ত আমরা এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে খোঁজখবর নিই।
না। সাধারণ বাংলাদেশি পাসপোর্টে ট্রানজিটের সময় চাঙ্গি বিমানবন্দর থেকে বের হতেও ভিসা লাগে, আর সিঙ্গাপুরের ভিসামুক্ত ট্রানজিট সুবিধায় বাংলাদেশ নেই। কানেক্টিং ফ্লাইটের জন্য বিমানবন্দরের ভেতরে থাকলে ইমিগ্রেশন পার হতে হয় না।
হাইকমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এজেন্ট জমা দেওয়ার পরের দিন থেকে অন্তত ৫ কর্মদিবস। কাগজ অসম্পূর্ণ হলে বা ব্যস্ত সময়ে বেশি লাগে, তাই যাত্রার দুই-তিন সপ্তাহ আগে আবেদন করুন। ICA পৌঁছানোর আগের ৩০ দিনের মধ্যে আবেদন করতে বলে।
ভিসায় এটি নির্ধারিত থাকে না। চেকপয়েন্টে ICA কর্মকর্তা থাকার মেয়াদ ঠিক করেন এবং তা ই-পাসে লিখে দেন, যা পৌঁছানোর পর ইমেইলে আসে। আরও বেশি দিন থাকতে চাইলে মেয়াদ ১৪ দিন বা তার কম থাকতে অনলাইনে এক্সটেনশনের আবেদন করুন; সেটিও ICA-ই ঠিক করে।
না। ICA বা হাইকমিশন কারণ জানায় না। এজেন্টের মাধ্যমে, অথবা প্রত্যাখ্যানের এক মাসের মধ্যে সরাসরি ICA-তে আপিল করা যায়, যাতে সাধারণত প্রায় ১৪ কর্মদিবস লাগে। নতুন করে আবেদনে লাভ হয় কেবল নতুন তথ্য দিলে: আরও শক্ত আর্থিক প্রমাণ, মিলে যাওয়া আয়ের তথ্য বা ভ্রমণের স্পষ্ট উদ্দেশ্য।
প্রত্যেক যাত্রীকে পৌঁছানোর দিনসহ আগের ৩ দিনের মধ্যে ICA ওয়েবসাইট বা MyICA অ্যাপে বিনা খরচে জমা দিতে হয়, এমন একটি অনলাইন অ্যারাইভাল ফর্ম। এটি ভিসা নয়। এটি না থাকলে প্রবেশে বাধা দেওয়া হতে পারে, আর ঢাকায় চেক-ইনের সময় এয়ারলাইনও দেখতে চাইতে পারে।
না। ভিসা দেওয়া হবে কিনা, সেই সিদ্ধান্ত নেয় কেবল দূতাবাস, হাইকমিশন বা ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। তাই কোনো এজেন্সিই সৎভাবে ভিসার গ্যারান্টি দিতে পারে না। আমরা নিশ্চিত করি যে আপনার ফাইল সম্পূর্ণ, তথ্যগুলো একটার সঙ্গে আরেকটা মেলে এবং অফিসিয়াল চেকলিস্ট অনুযায়ী সাজানো, যাতে প্রত্যাখ্যানের সাধারণ কারণগুলো এড়ানো যায়। বাড়তি টাকার বিনিময়ে “গ্যারান্টি ভিসা”র প্রতিশ্রুতি দিলে সতর্ক থাকুন।
হ্যাঁ। প্রত্যাখ্যানের চিঠি (রিফিউজাল লেটার) আর আগে জমা দেওয়া কাগজপত্র আমাদের পাঠান। দূতাবাস যে কারণ দেখিয়েছে, যেমন আর্থিক প্রমাণ দুর্বল, ভ্রমণের উদ্দেশ্য অস্পষ্ট বা কাগজ অসম্পূর্ণ, সেটি ঠিক করে তারপর নতুন আবেদন করা হয়। একই ফাইল দিয়ে আবার আবেদন করলে ফলাফল সাধারণত একই হয়। আবেদন ফর্মে জানতে চাইলে আগের রিফিউজালের কথা অবশ্যই উল্লেখ করুন; গোপন করলে দীর্ঘ মেয়াদে নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে।
দূতাবাসের নিয়ম যেকোনো সময় বদলাতে পারে। আবেদনের আগে সর্বশেষ চেকলিস্ট নিশ্চিত করতে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।










