সংক্ষেপে উত্তর
বাংলাদেশিদের কি চীন যেতে ভিসা লাগে?
হ্যাঁ। বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের ভিসা আবেদন কেন্দ্রের (ভিএফএস) মাধ্যমে আবেদন করতে হয়। প্রসেসিংয়ে সাধারণত ২–৪ কর্মদিবস লাগে। অফিসিয়াল ফি মিলিয়ে জনপ্রতি প্রায় ৳১৮,০০০ লাগে। থাকার মেয়াদ: প্রতিটি আবেদনভেদে নির্ধারিত, নির্দিষ্ট সংখ্যা নেই। ঢাকায় আবেদন জমা দিতে হয় এখানে: চাইনিজ ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সার্ভিস সেন্টার (CVC), ঢাকা।
সম্প্রতি কী বদলেছে?
- ভিসা ফি হ্রাস সম্প্রসারণের নোটিশ: উপরের কমানো ফি ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বহাল থাকবে।
- CVC ঢাকা ফিঙ্গারপ্রিন্ট মওকুফের আওতা বাড়িয়ে সব স্বল্পমেয়াদি (১৮০ দিন বা তার কম) ভিসা আবেদনকারীকে, যেকোনো এন্ট্রি সংখ্যায়, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত অন্তর্ভুক্ত করেছে — আগে শুধু সিঙ্গেল/ডাবল এন্ট্রি আবেদনকারীরাই এই সুবিধা পেতেন।
- ঢাকার চাইনিজ ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সার্ভিস সেন্টার (CVC) সাধারণ পাসপোর্টের ভিসা আবেদন নেওয়া শুরু করে; দূতাবাস সরাসরি আবেদন নেওয়া বন্ধ করে দেয়।
চীন ভিসার জন্য কী কী কাগজ লাগবে?
কাগজ জোগাড় হলে টিক দিন — আপনার অগ্রগতি এই ডিভাইসে সংরক্ষিত থাকবে।
৬টির মধ্যে ০টি প্রস্তুত
চীন ভিসার খরচ কত?
জনপ্রতি হিসাব। অফিসিয়াল ফি দূতাবাস, ভিসা সেন্টার বা পোর্টালে দিতে হয়; আমাদের সার্ভিস ফি আলাদা।
| ফি | জনপ্রতি |
|---|---|
| সিঙ্গেল এন্ট্রি, নিয়মিত সার্ভিস (৪ কর্মদিবস)ভিসা সেন্টারে দিতে হয় | ৳২,৪০০ |
| সিঙ্গেল এন্ট্রি, এক্সপ্রেস সার্ভিস (৩ কর্মদিবস)ঐচ্ছিকভিসা সেন্টারে দিতে হয় | ৳৫,১০০ |
| সিঙ্গেল এন্ট্রি, জরুরি সার্ভিস (২ কর্মদিবস)ঐচ্ছিকভিসা সেন্টারে দিতে হয় | ৳৬,৪০০ |
| ডাবল এন্ট্রি, নিয়মিত সার্ভিস (৪ কর্মদিবস)ভিসা সেন্টারে দিতে হয় | ৳৩,৬০০ |
| ডাবল এন্ট্রি, এক্সপ্রেস সার্ভিস (৩ কর্মদিবস)ঐচ্ছিকভিসা সেন্টারে দিতে হয় | ৳৬,৩০০ |
| ডাবল এন্ট্রি, জরুরি সার্ভিস (২ কর্মদিবস)ঐচ্ছিকভিসা সেন্টারে দিতে হয় | ৳৭,৬০০ |
| ৬ মাসের মাল্টিপল এন্ট্রি, নিয়মিত সার্ভিস (৪ কর্মদিবস)ভিসা সেন্টারে দিতে হয় | ৳৪,৮০০ |
| ৬ মাসের মাল্টিপল এন্ট্রি, এক্সপ্রেস সার্ভিস (৩ কর্মদিবস)ঐচ্ছিকভিসা সেন্টারে দিতে হয় | ৳৭,৫০০ |
| ৬ মাসের মাল্টিপল এন্ট্রি, জরুরি সার্ভিস (২ কর্মদিবস)ঐচ্ছিকভিসা সেন্টারে দিতে হয় | ৳৮,৮০০ |
| ১২/২৪ মাসের মাল্টিপল এন্ট্রি, নিয়মিত সার্ভিস (৪ কর্মদিবস)ভিসা সেন্টারে দিতে হয় | ৳৭,২০০ |
| ১২/২৪ মাসের মাল্টিপল এন্ট্রি, এক্সপ্রেস সার্ভিস (৩ কর্মদিবস)ঐচ্ছিকভিসা সেন্টারে দিতে হয় | ৳৯,৯০০ |
| ১২/২৪ মাসের মাল্টিপল এন্ট্রি, জরুরি সার্ভিস (২ কর্মদিবস)ঐচ্ছিকভিসা সেন্টারে দিতে হয় | ৳১১,২০০ |
| ফ্লাইনেক্সট সার্ভিস ফিফ্লাইনেক্সটকে দিতে হয় | জিজ্ঞাসা করুন |
| আমাদের সার্ভিস ফি ছাড়া মোট | ৳১৮,০০০ |
ঐচ্ছিক ফি মোটের মধ্যে ধরা হয়নি।
চীন ভিসার আবেদন কীভাবে করব?
- ১
অনলাইনে আবেদন ফর্ম পূরণ করুন
visaforchina.cn/globle/-এ ভিসা আবেদন ফর্ম পূরণ করুন, এরপর কনফার্মেশন পেজ ও পুরো ফর্ম প্রিন্ট করুন (দুই পাশে প্রিন্ট করাই ভালো) এবং দুটিতেই স্বাক্ষর করুন।
- ২
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জোগাড় করুন
পাসপোর্ট (৬ মাসের বেশি মেয়াদ, খালি পাতা) ও এর ফটোকপি, স্বাক্ষরিত প্রিন্ট করা ফর্ম, মিলে যাওয়া ছবি, আর প্রয়োজনে আমন্ত্রণপত্র বা উদ্দেশ্য-ভিত্তিক প্রমাণ জোগাড় করুন।
- ৩
বনানীর CVC-তে জমা দিন
আবেদন জমা দিতে হয় চাইনিজ ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সার্ভিস সেন্টারে, দূতাবাসের কাউন্টারে নয়। সেখানে দশ আঙুলের ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়া হয়, যদি না আপনি চলতি ফিঙ্গারপ্রিন্ট-মওকুফ নিয়মের আওতায় পড়েন (উপরে ডকুমেন্টস আর নিচে FAQ দেখুন)।
- ৪
ফি পরিশোধ করুন
বেছে নেওয়া এন্ট্রির ধরন ও প্রসেসিং গতি অনুযায়ী কাউন্টারে কার্ডে ভিসা ফি (সঙ্গে এক্সপ্রেস ফি ও CVC-র আলাদা সার্ভিস ফি, যদি থাকে) পরিশোধ করুন।
- ৫
পাসপোর্ট সংগ্রহ করুন
জমা দেওয়ার পরদিন থেকে গুনে নিয়মিত সার্ভিসে ৪ কর্মদিবস, এক্সপ্রেসে ৩ ও জরুরিতে ২ কর্মদিবস লাগে। রবি থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯:০০–বিকেল ৪:০০ সময়ে CVC থেকে সংগ্রহ করুন।
ঢাকায় কোথায় আবেদন করব?
চাইনিজ ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সার্ভিস সেন্টার (CVC), ঢাকা
৩য় তলা, প্রাসাদ ট্রেড সেন্টার, ৬ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বনানী, ঢাকা
রবি থেকে বৃহস্পতিবার খোলা, ছুটির দিন ছাড়া। জমা ও পেমেন্ট সকাল ৯:০০–দুপুর ৩:০০; সংগ্রহ সকাল ৯:০০–বিকেল ৪:০০। ফোন ০২ ২২৬৬০৩২৬১ / ০২ ২২৬৬০৩২৬২, ইমেইল dhakacenter@visaforchina.org। ১১ এপ্রিল ২০২৪ থেকে দূতাবাস নিজে সাধারণ পাসপোর্টের আবেদন সরাসরি নেয় না, শুধু এই সেন্টারের মাধ্যমেই নেওয়া হয়।
চীন ভিসা নিয়ে মানুষ আর কী জানতে চায়?
না। বাংলাদেশি পর্যটকদের ঢাকার চাইনিজ ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সার্ভিস সেন্টারের মাধ্যমে আগে থেকে L ভিসা নিতে হয়। সাধারণ ভ্রমণে অন-অ্যারাইভাল, ETA বা ই-ভিসার সুযোগ নেই।
শুধু ২৪ ঘণ্টার ভিসা-মুক্ত ট্রানজিটের আওতায়: কনফার্ম করা কানেক্টিং টিকিট থাকতে হবে, আর পোর্টের নির্ধারিত এলাকার ভেতরেই থাকতে হবে। চীনের দীর্ঘ ২৪০ ঘণ্টার ট্রানজিট, যা পোর্টের বাইরে যাওয়ার সুযোগ দেয়, তার ৫৭টি যোগ্য দেশের তালিকায় বাংলাদেশ নেই — সেই সুবিধা এখানে প্রযোজ্য নয়।
এখন লাগে না। CVC ঢাকার ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫-এর নোটিশ অনুযায়ী সব স্বল্পমেয়াদি (১৮০ দিন বা তার কম) আবেদনকারীর জন্য, যেকোনো এন্ট্রি সংখ্যায়, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ফিঙ্গারপ্রিন্ট মওকুফ — তবে প্রবেশের পর রেসিডেন্স পারমিট লাগে এমন ভিসার (D, J1, Q1, S1, X1, Z) ক্ষেত্রে বা এই সময়সীমার বাইরে গেলে প্রযোজ্য নয়।
সিঙ্গেল এন্ট্রি, নিয়মিত ৪ কর্মদিবসের সার্ভিসে ২,৪০০ টাকা থেকে শুরু করে ১২/২৪ মাসের মাল্টিপল এন্ট্রি, জরুরি ২ কর্মদিবসের সার্ভিসে ১১,২০০ টাকা পর্যন্ত, সঙ্গে আলাদা একটি CVC সার্ভিস ফি — যাচাই করা পাতায় যার সঠিক অঙ্ক পাওয়া যায়নি।
না। ১১ এপ্রিল ২০২৪ থেকে সাধারণ পাসপোর্টধারীদের বনানীর চাইনিজ ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সার্ভিস সেন্টারের (CVC) মাধ্যমে আবেদন করতে হয়, দূতাবাসের কাউন্টারে নয়।
দূতাবাসের ভাষ্য অনুযায়ী নিয়মিত সার্ভিসে ৪ কর্মদিবস, এক্সপ্রেসে ৩ আর জরুরিতে ২ কর্মদিবস লাগে — তবে কিছু আবেদনে এর চেয়ে বেশি সময়ও লাগতে পারে, তাই ফ্লাইটের আগে হাতে কিছুটা বাড়তি সময় রেখে আবেদন করাই ভালো।
না। ভিসা দেওয়া হবে কিনা, সেই সিদ্ধান্ত নেয় কেবল দূতাবাস, হাইকমিশন বা ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। তাই কোনো এজেন্সিই সৎভাবে ভিসার গ্যারান্টি দিতে পারে না। আমরা নিশ্চিত করি যে আপনার ফাইল সম্পূর্ণ, তথ্যগুলো একটার সঙ্গে আরেকটা মেলে এবং অফিসিয়াল চেকলিস্ট অনুযায়ী সাজানো, যাতে প্রত্যাখ্যানের সাধারণ কারণগুলো এড়ানো যায়। বাড়তি টাকার বিনিময়ে “গ্যারান্টি ভিসা”র প্রতিশ্রুতি দিলে সতর্ক থাকুন।
হ্যাঁ। প্রত্যাখ্যানের চিঠি (রিফিউজাল লেটার) আর আগে জমা দেওয়া কাগজপত্র আমাদের পাঠান। দূতাবাস যে কারণ দেখিয়েছে, যেমন আর্থিক প্রমাণ দুর্বল, ভ্রমণের উদ্দেশ্য অস্পষ্ট বা কাগজ অসম্পূর্ণ, সেটি ঠিক করে তারপর নতুন আবেদন করা হয়। একই ফাইল দিয়ে আবার আবেদন করলে ফলাফল সাধারণত একই হয়। আবেদন ফর্মে জানতে চাইলে আগের রিফিউজালের কথা অবশ্যই উল্লেখ করুন; গোপন করলে দীর্ঘ মেয়াদে নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে।
দূতাবাসের নিয়ম যেকোনো সময় বদলাতে পারে। আবেদনের আগে সর্বশেষ চেকলিস্ট নিশ্চিত করতে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।







