বাংলাদেশ থেকে থাইল্যান্ড ভ্রমণের খরচ: ভিসা, বিমান ভাড়া, হোটেল ও দৈনিক বাজেট
শীত মৌসুমে ঢাকা থেকে ৫ দিনের ব্যাংকক-পাতায়া ভ্রমণে জনপ্রতি খরচ প্রায় ৬৫,০০০ থেকে ১,০০,০০০ টাকা: ৪,৫০০ টাকার ই-ভিসা, রিটার্ন টিকিট, ৩-তারকা হোটেল, দুটি ট্যুর ও খাবার মিলিয়ে। টাকায় পুরো হিসাব দেখুন।
লিখেছেন রায়হান মাহমুদপ্রকাশিতহালনাগাদ ৪ মিনিটে পড়ুন

নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে ঢাকা থেকে ব্যাংকক ও পাতায়ায় ৫ দিন ৪ রাতের ভ্রমণে জনপ্রতি খরচ পড়ে প্রায় ৬৫,০০০ থেকে ১,০০,০০০ টাকা। এর মধ্যে আছে থাইল্যান্ড ই-ভিসা, রিটার্ন বিমান টিকিট, টুইন শেয়ারিংয়ে ৩-তারকা হোটেল, জনপ্রিয় দুটি ট্যুর ও খাবার। সবচেয়ে বড় আর সবচেয়ে ওঠানামা করা খরচ বিমান ভাড়া, তাই কখন টিকিট কাটছেন সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
💡 সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ যাচাই করা। ভিসা ফি দূতাবাসের নির্ধারিত অফিসিয়াল ফি। বিমান, হোটেল ও ট্যুরের দাম এয়ারলাইন, হোটেল ও ট্যুর ওয়েবসাইটে দেখা আনুমানিক সীমা, যা প্রতিদিন বদলায়; তাই এগুলোকে কোটেশন নয়, ধারণা হিসেবে নিন।
এক নজরে থাইল্যান্ড ভ্রমণের খরচ
খরচের খাত (জনপ্রতি) | টাকায় |
থাইল্যান্ড ই-ভিসা ফি | ৪,৫০০ |
ঢাকা–ব্যাংকক রিটার্ন বিমান টিকিট | ৩৬,০০০–৫৫,০০০ |
৩-তারকা হোটেল, ৪ রাত, টুইন শেয়ারিং | ৮,০০০–১৬,০০০ |
কোরাল আইল্যান্ড ও সাফারি ওয়ার্ল্ড ট্যুর | ৭,০০০–১০,০০০ |
৫ দিনের খাবার ও স্থানীয় যাতায়াত | ৮,০০০–১৫,০০০ |
মোট | প্রায় ৬৫,০০০–১,০০,০০০ |
ভিসা: ৪,৫০০ টাকা, ৭–১০ কর্মদিবস
থাইল্যান্ড যেতে বাংলাদেশিদের ভিসা লাগে; অন-অ্যারাইভাল ভিসা নেই। অনলাইনে ই-ভিসার আবেদন করে কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন বা ইস্টার্ন ব্যাংকে ৪,৫০০ টাকা ফি জমা দিতে হয়। দূতাবাস ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও সলভেন্সি সার্টিফিকেটে জনপ্রতি অন্তত ৬০,০০০ টাকা দেখতে চায়, আর এখন ই-স্টেটমেন্ট গ্রহণ করে না। উৎসসহ কাগজপত্রের পূর্ণ তালিকা পাবেন আমাদের থাইল্যান্ড ভিসা পেজে।
ঢাকা থেকে বিমান ভাড়া
বিমান বাংলাদেশ, ইউএস-বাংলা ও থাই এয়ারওয়েজ ঢাকা–ব্যাংকক রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালায়, সময় লাগে প্রায় আড়াই ঘণ্টা। আগেভাগে টিকিট কাটলে রিটার্ন ভাড়া শুরু হয় প্রায় ৩৬,০০০ টাকা থেকে। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে জানুয়ারির শুরু পর্যন্ত স্কুল ছুটিতে অনেক পরিবার একসঙ্গে ভ্রমণ করে, তখন ৪৫,০০০–৫৫,০০০ টাকা বা তার বেশি ধরে রাখুন। ফুকেট বা ক্রাবি গেলে ব্যাংকক থেকে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট যোগ করুন, অথবা সরাসরি গন্তব্য পর্যন্ত একটি টিকিট খুঁজুন।
হোটেল
একই মানের ৩-তারকা হোটেল ব্যাংককের চেয়ে পাতায়ায় সাধারণত সস্তা। টুইন শেয়ারিংয়ে জনপ্রতি প্রতি রাতে ২,০০০–৪,০০০ টাকা বাজেট রাখুন। ট্যাক্সি খরচ বাঁচাতে পাতায়ায় বিচ রোডের কাছে আর ব্যাংককে সুখুমভিত বা প্রাতুনাম এলাকায় থাকুন। কিছু হোটেল চেক-ইনের সময় ফেরতযোগ্য সিকিউরিটি ডিপোজিট নেয়, তাই এর জন্য কার্ড বা কিছু নগদ রাখুন।
ট্যুর ও প্রবেশ টিকিট
- কোরাল আইল্যান্ড (কো লার্ন): দুপুরের খাবারসহ শেয়ার করা স্পিডবোট ট্যুর ট্যুর অপারেটরদের কাছে কয়েকশো বাথ থেকে পাওয়া যায়; ওয়াটার স্পোর্টসের খরচ আলাদা।
- সাফারি ওয়ার্ল্ড ও মেরিন পার্ক: দুটি মিলিয়ে টিকিট মোটামুটি ১,১০০–১,৫০০ বাথ; আগে অনলাইনে কিনলে কম পড়ে।
- ফুকেট থেকে ফি ফি: স্পিডবোটে দিনব্যাপী ট্যুর ২,০০০–৩,৫০০ বাথ, সঙ্গে ৪০০ বাথ ন্যাশনাল পার্ক ফি।
ঢাকার এজেন্সির ট্যুরে সাধারণত হোটেল থেকে পিক-আপ ও দুপুরের খাবার থাকে, যা পরিবার বা বয়স্ক বাবা-মাকে নিয়ে গেলে সুবিধাজনক।
দৈনিক খরচ
স্ট্রিট ফুড আর ফুড কোর্টে খেলে খরচ কম থাকে; পর্যটন এলাকার রেস্তোরাঁয় রাতের খাবারে খরচ বেশি। ব্যাংককে গ্র্যাব ও মিটার ট্যাক্সি সহজে পাওয়া যায়, আর বিটিএস স্কাইট্রেনে যানজট এড়ানো যায়। বেশিরভাগ যাত্রীর খাবার, পানি ও স্থানীয় যাতায়াতে জনপ্রতি দিনে ১,৫০০–৩,০০০ টাকা যথেষ্ট; কেনাকাটার খরচ আলাদা।
নগদ অর্থ, কার্ড ও পৌঁছানোর পর
থাই ইমিগ্রেশন পর্যটকদের কাছে জনপ্রতি ২০,০০০ বা পরিবারপ্রতি ৪০,০০০ বাথ নগদ বা সমমূল্যের অর্থ দেখতে চাইতে পারে, তাই কার্ডে খরচের পরিকল্পনা থাকলেও এটি সঙ্গে রাখুন। যাত্রার আগে ব্যাংক থেকে পাসপোর্টে বৈদেশিক মুদ্রা এনডোর্স করিয়ে নিন, আর পৌঁছানোর আগের ৩ দিনের মধ্যে বিনা খরচে থাইল্যান্ড ডিজিটাল অ্যারাইভাল কার্ড (TDAC) পূরণ করুন।
কম খরচে যাওয়ার সেরা সময়
নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি থাইল্যান্ডের ঠান্ডা ও শুকনো মৌসুম, আর বাংলাদেশি পর্যটকদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় সময়। ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস থেকে জানুয়ারির শুরু পর্যন্ত স্কুল ছুটিতে বিমান ভাড়া ও হোটেলের দাম সবচেয়ে বেশি থাকে। ফুকেট, ফি ফি বা ক্রাবির সৈকতে যেতে চাইলে নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে এপ্রিলের মধ্যে যান: মে থেকে অক্টোবর আন্দামান উপকূলে বর্ষা থাকে, আর সাগর উত্তাল হলে নৌকা ট্যুর বাতিল হতে পারে। ব্যাংকক ও পাতায়া সারা বছরই ঘোরা যায়; আবহাওয়া আর খরচের ভারসাম্যে নভেম্বরের শুরু বা ফেব্রুয়ারির শেষ সবচেয়ে ভালো।
যেসব খরচের কথা অনেকে ভুলে যান
- ম্যাপ ও গ্র্যাব ব্যবহারের জন্য মোবাইল ডেটা সিম বা ই-সিম।
- হোটেলের সিকিউরিটি ডিপোজিট, যা চেক-আউটের সময় ফেরত দেওয়া হয়।
- টিকিটে শুধু কেবিন ব্যাগ থাকলে চেকড ব্যাগেজ, আর কেনাকাটার পর ফেরার পথে বাড়তি ওজনের খরচ।
- ভ্রমণ বীমা, কারণ থাইল্যান্ডে চিকিৎসা খরচ অনেক বেশি হতে পারে।
- ওয়াটার স্পোর্টস, শো ও টিপস, যা ট্যুরের দামে থাকে না।
প্যাকেজ নেবেন, না নিজে পরিকল্পনা করবেন?
আলাদা আলাদা বুক করলে নিজের মতো সাজানো যায়, কিন্তু পরিকল্পনার ফাঁকে দাম বদলে যায়। প্যাকেজে হোটেল, ট্রান্সফার ও ট্যুর এক দামে নিশ্চিত থাকে। আমাদের ব্যাংকক ও পাতায়া ৫ দিনের প্যাকেজ ফ্লাইট ছাড়া ৩২,৯০০ টাকা আর ফ্লাইটসহ ৬৮,৯০০ টাকা থেকে শুরু, আর ফুকেট, ফি ফি ও ক্রাবি ৬ দিনের প্যাকেজ শুরু ৩৯,৯০০ টাকা থেকে। দুটিতেই ই-ভিসায় সহায়তা পাবেন।
খরচ কমানোর উপায়
- ৬–৮ সপ্তাহ আগে টিকিট কাটুন, আর ১৬ ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারির শুরুর ভিড় এড়িয়ে চলুন।
- নভেম্বর বা ফেব্রুয়ারিতে যান: আবহাওয়া তখনও শুকনো, ভাড়াও কম।
- তিনজন গেলে ট্রিপল রুম শেয়ার করুন।
- দর্শনীয় স্থানের টিকিট যাওয়ার আগেই অনলাইনে কিনে নিন।
নিজের তারিখ অনুযায়ী দাম জানতে চান? ভ্রমণের তারিখ ও বাজেট জানান, আমরা বিমান ভাড়া, হোটেল ও ভিসা মিলিয়ে কোটেশন পাঠাব।
থাইল্যান্ড ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন?
কী কী লাগবে তা আমাদের থাইল্যান্ড ভিসা গাইডে দেখে নিন, অথবা হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দিন — আবেদনে আমরা সাহায্য করব।





