সংক্ষেপে উত্তর
বাংলাদেশিদের কি সৌদি আরব (ওমরাহ) যেতে ভিসা লাগে?
হ্যাঁ। বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের সৌদি আরব (ওমরাহ) ই-ভিসার জন্য অনলাইনে আবেদন করতে হয়। প্রসেসিংয়ে সাধারণত ৩–৭ কর্মদিবস লাগে। ভিসা ফি SAR ৩০০। সর্বোচ্চ ১৫ দিন থাকা যায়। ভিসার মেয়াদ ৩০ দিন।
সম্প্রতি কী বদলেছে?
- সৌদি আরব ১৪৪৮ হিজরির ওমরাহ মৌসুম ঘোষণা করেছে: ভিসা শুরু ৩১ মে ২০২৬, শেষ ইস্যু ৯ মার্চ ২০২৭, শেষ প্রবেশ ২৩ মার্চ ২০২৭ এবং দেশ ছাড়ার শেষ তারিখ ৭ এপ্রিল ২০২৭।
- ওমরাহ ভিসা ইস্যুর পর প্রবেশের সময়সীমা ৩ মাস থেকে কমিয়ে ৩০ দিন করা হয়েছে; প্রবেশের পর থাকার মেয়াদ অপরিবর্তিত।
সৌদি আরব (ওমরাহ) ভিসার জন্য কী কী কাগজ লাগবে?
কাগজ জোগাড় হলে টিক দিন — আপনার অগ্রগতি এই ডিভাইসে সংরক্ষিত থাকবে।
কে আবেদন করছেন?
একটি বেছে নিন, সেই অবস্থার জন্য বাড়তি কাগজগুলো তালিকায় যোগ হবে।
৬টির মধ্যে ০টি প্রস্তুত
সৌদি আরব (ওমরাহ) ভিসার খরচ কত?
জনপ্রতি হিসাব। অফিসিয়াল ফি দূতাবাস, ভিসা সেন্টার বা পোর্টালে দিতে হয়; আমাদের সার্ভিস ফি আলাদা।
| ফি | জনপ্রতি |
|---|---|
| ওমরাহ ভিসা ফি (এজেন্সির দেওয়া তথ্য; মন্ত্রণালয় প্রকাশ করেনি) | SAR ৩০০ |
| ফ্লাইনেক্সট সার্ভিস ফিফ্লাইনেক্সটকে দিতে হয় | জিজ্ঞাসা করুন |
সৌদি আরব (ওমরাহ) ভিসার আবেদন কীভাবে করব?
- ১
নিবন্ধিত হজ ও ওমরাহ এজেন্সি বেছে নিন
হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনা আইন ২০২১ অনুযায়ী নিবন্ধিত এজেন্সিই কেবল ওমরাহর ব্যবস্থা করতে পারে। টাকা দেওয়ার আগে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত তালিকায় এজেন্সির লাইসেন্স নম্বর মিলিয়ে নিন।
- ২
কাগজপত্র জমা দিন ও টিকা নিন
এজেন্সিকে পাসপোর্ট, ছবি ও ভ্রমণের তারিখ দিন, আর যাত্রার অন্তত ১০ দিন আগে মেনিনজাইটিস টিকা নিন।
- ৩
Saudi Visa Bio অ্যাপে আঙুলের ছাপ দিন
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল Saudi Visa Bio অ্যাপ ডাউনলোড করে পাসপোর্ট দিয়ে মুখের ছবি ও আঙুলের ছাপ নিবন্ধন করুন।
- ৪
এজেন্সি নুসুকে বুকিং করে আবেদন করে
নুসুকে আপনার হোটেল ও যাতায়াত বুক করা হয়, তারপর সৌদি ওমরাহ কোম্পানি বাধ্যতামূলক বীমাসহ ই-ভিসার আবেদন করে।
- ৫
৩০ দিনের মধ্যে প্রবেশ করুন ও ওমরাহ পারমিট বুক করুন
ইস্যুর ৩০ দিনের মধ্যে যাত্রা করুন। নুসুক অ্যাপে ওমরাহর সময় আর মদিনায় গেলে রওজা শরিফ জিয়ারতের সময় বুক করুন। ভিসার মেয়াদ ও মৌসুমের শেষ বহির্গমন তারিখের আগেই দেশে ফিরুন।
সৌদি আরব (ওমরাহ) ভিসার আবেদন কেন প্রত্যাখ্যাত হয়?
আঙুলের ছাপ নিবন্ধন না করা
যা করলে সুবিধা হয়: এজেন্সি বলার সঙ্গে সঙ্গে Saudi Visa Bio নিবন্ধন শেষ করুন; এটি ছাড়া ভিসা ইস্যু হয় না।
নুসুকে হোটেল ও যাতায়াতের কনফার্ম বুকিং না থাকা
যা করলে সুবিধা হয়: বাকি টাকা দেওয়ার আগে এজেন্সির কাছে নুসুক বুকিং রেফারেন্স চেয়ে নিন।
পাসপোর্টের মেয়াদ ৬ মাসের কম
যা করলে সুবিধা হয়: এজেন্সি আবেদন করার আগে পাসপোর্ট নবায়ন করুন।
আগে সৌদি আরবে মেয়াদের বেশি থাকা বা নিষেধাজ্ঞা
যা করলে সুবিধা হয়: মেয়াদের বেশি থাকলে ৫০,০০০ রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা, কারাদণ্ড ও দেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে, আর ভবিষ্যতে ভিসা পাওয়া বন্ধ হয়। সবসময় সময়মতো ফিরুন।
নিবন্ধনহীন এজেন্সি
যা করলে সুবিধা হয়: নিবন্ধনহীন এজেন্সি বাংলাদেশের আইন ভঙ্গ করে এবং হাজিদের বিপদে ফেলতে পারে। মন্ত্রণালয়ের তালিকা যাচাই করুন।
সৌদি আরব (ওমরাহ) ভিসা নিয়ে মানুষ আর কী জানতে চায়?
১৪৪৮ হিজরির মৌসুমে ওমরাহ ভিসা শুরু হয়েছে ৩১ মে ২০২৬। ভিসা পাওয়ার শেষ দিন ৯ মার্চ ২০২৭, সৌদি আরবে প্রবেশের শেষ দিন ২৩ মার্চ ২০২৭, আর হজ মৌসুমের আগে ৭ এপ্রিল ২০২৭-এর মধ্যে সব ওমরাহ যাত্রীকে দেশ ছাড়তে হবে।
উমরাহ ভিসা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য দেওয়া হয়: ১৫ দিন, ৩০ দিন বা ৮০ দিন। সাধারণ ১০–১৫ দিনের গ্রুপ প্যাকেজের জন্য ১৫ দিনের ভিসাই যথেষ্ট; বেশি সময় থাকতে চাইলে বা রমজানে গেলে ৩০ দিন; আর দীর্ঘ সময় থাকার জন্য ৮০ দিন। ৮০ দিনের ভিসা দুইভাবে হয়: যাত্রীর নিজের রিকোয়েস্টে, ৮০ দিনের মধ্যে ফেরার কনফার্ম টিকিটসহ—এতে ভিসা পাওয়া নিশ্চিত; অথবা সাধারণ নিয়মে, ওই রিকোয়েস্ট ছাড়া। আপনার তারিখে কোনটি খোলা আছে, তা জেনে নিন।
বাস্তবে না। কিছু দেশের নাগরিক নুসুকে সরাসরি বুক করতে পারেন, কিন্তু সাধারণ বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা ওমরাহ ভিসা পান ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধিত হজ ও ওমরাহ এজেন্সির মাধ্যমে, যারা সৌদি ওমরাহ কোম্পানির সঙ্গে কাজ করে। তবে ওমরাহ ও রওজার পারমিটের জন্য নুসুক অ্যাপ আপনাকে নিজেই ব্যবহার করতে হবে।
হ্যাঁ। সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের নিয়মে ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী নারীরা সংগঠিত গ্রুপের সঙ্গে গেলে পুরুষ অভিভাবক ছাড়াই ওমরাহ করতে পারেন। এজেন্সির নিজস্ব নিয়ম থাকতে পারে, তাই বুকিংয়ের আগে নিশ্চিত হয়ে নিন।
হ্যাঁ, হজ মৌসুমের বাইরে; তবে বেশিরভাগ বাংলাদেশি অনলাইন টুরিস্ট ই-ভিসা পান না। বাংলাদেশিরা এটি পান কেবল যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য বা শেনজেনের ব্যবহৃত ভিসা, অথবা যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য বা ইউরোপের রেসিডেন্স থাকলে। কোনো ভিজিট বা টুরিস্ট ভিসায় হজ করা যায় না।
এজেন্সির হজ ও ওমরাহ লাইসেন্স নম্বর চেয়ে নিন এবং ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নোটিশে (mora.gov.bd) প্রকাশিত অনুমোদিত ওমরাহ এজেন্সির তালিকায় তা খুঁজুন। নিয়ম ভঙ্গকারী এজেন্সির বিরুদ্ধেও মন্ত্রণালয় নোটিশ দেয়। বৈধ নিবন্ধন দেখাতে না পারলে কোনো এজেন্সিকে টাকা দেবেন না।
মেয়াদের বেশি থাকলে সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৫০,০০০ রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা, ৬ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড ও দেশে ফেরত পাঠাতে পারে, আর তা না জানালে ওমরাহ কোম্পানিকেও জরিমানা করা হয়। মেয়াদের বেশি থাকার রেকর্ড থাকলে ভবিষ্যতে সৌদি ভিসা পাওয়া খুব কঠিন হয়ে যায়।
না। ভিসা দেওয়া হবে কিনা, সেই সিদ্ধান্ত নেয় কেবল দূতাবাস, হাইকমিশন বা ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। তাই কোনো এজেন্সিই সৎভাবে ভিসার গ্যারান্টি দিতে পারে না। আমরা নিশ্চিত করি যে আপনার ফাইল সম্পূর্ণ, তথ্যগুলো একটার সঙ্গে আরেকটা মেলে এবং অফিসিয়াল চেকলিস্ট অনুযায়ী সাজানো, যাতে প্রত্যাখ্যানের সাধারণ কারণগুলো এড়ানো যায়। বাড়তি টাকার বিনিময়ে “গ্যারান্টি ভিসা”র প্রতিশ্রুতি দিলে সতর্ক থাকুন।
হ্যাঁ। প্রত্যাখ্যানের চিঠি (রিফিউজাল লেটার) আর আগে জমা দেওয়া কাগজপত্র আমাদের পাঠান। দূতাবাস যে কারণ দেখিয়েছে, যেমন আর্থিক প্রমাণ দুর্বল, ভ্রমণের উদ্দেশ্য অস্পষ্ট বা কাগজ অসম্পূর্ণ, সেটি ঠিক করে তারপর নতুন আবেদন করা হয়। একই ফাইল দিয়ে আবার আবেদন করলে ফলাফল সাধারণত একই হয়। আবেদন ফর্মে জানতে চাইলে আগের রিফিউজালের কথা অবশ্যই উল্লেখ করুন; গোপন করলে দীর্ঘ মেয়াদে নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে।
দূতাবাসের নিয়ম যেকোনো সময় বদলাতে পারে। আবেদনের আগে সর্বশেষ চেকলিস্ট নিশ্চিত করতে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।






