সংক্ষেপে উত্তর
বাংলাদেশিদের কি দুবাই (সংযুক্ত আরব আমিরাত) যেতে ভিসা লাগে?
হ্যাঁ। বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের দুবাই (সংযুক্ত আরব আমিরাত) ই-ভিসার জন্য অনলাইনে আবেদন করতে হয়। প্রসেসিংয়ে সাধারণত ২–৪ কর্মদিবস লাগে। ভিসা ফি AED ২০০। সর্বোচ্চ ৩০ দিন থাকা যায়। ঢাকায় আবেদন জমা দিতে হয় এখানে: সংযুক্ত আরব আমিরাত দূতাবাস, ঢাকা।
সম্প্রতি কী বদলেছে?
- এমিরেটস নির্দিষ্ট এমিরেটস হলিডেজ প্যাকেজের সঙ্গে বাংলাদেশি যাত্রীদের দুবাইয়ে ৯৬ ঘণ্টার ট্রানজিট ভিসা দেওয়া শুরু করেছে।
- যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য বা ইউরোপের ভিসাধারীদের জন্য আমিরাত অন-অ্যারাইভাল ভিসার সুবিধা আরও কয়েকটি দেশে বাড়িয়েছে। বাংলাদেশ এতে অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
- জানুয়ারি ২০২৬ থেকে বাংলাদেশিদের ওপর আমিরাতের ভিসা নিষেধাজ্ঞার সামাজিক মাধ্যমের দাবি আবুধাবির বাংলাদেশ দূতাবাস অস্বীকার করেছে।
- ২০২৪ সালে ভিসা দেওয়া অনেক কমে যাওয়ার পর ঢাকায় আমিরাতের রাষ্ট্রদূত জানান, দূতাবাস প্রতিদিন বাংলাদেশিদের ৩০ থেকে ৫০টি ভিজিট ভিসা দিচ্ছে।
দুবাই (সংযুক্ত আরব আমিরাত) ভিসার জন্য কী কী কাগজ লাগবে?
কাগজ জোগাড় হলে টিক দিন — আপনার অগ্রগতি এই ডিভাইসে সংরক্ষিত থাকবে।
৭টির মধ্যে ০টি প্রস্তুত
দুবাই (সংযুক্ত আরব আমিরাত) ভিসার খরচ কত?
জনপ্রতি হিসাব। অফিসিয়াল ফি দূতাবাস, ভিসা সেন্টার বা পোর্টালে দিতে হয়; আমাদের সার্ভিস ফি আলাদা।
টুরিস্ট ভিসা, ৩০ দিন, সিঙ্গেল এন্ট্রি
| ফি | জনপ্রতি |
|---|---|
| টুরিস্ট ভিসা, ৩০ দিন (সঙ্গে ৫% ভ্যাট ও ২০ দিরহাম সরকারি চার্জ)অনলাইনে দিতে হয় | AED ২০০ |
| ফ্লাইনেক্সট সার্ভিস ফিফ্লাইনেক্সটকে দিতে হয় | জিজ্ঞাসা করুন |
টুরিস্ট ভিসা, ৬০ দিন, সিঙ্গেল এন্ট্রি
| ফি | জনপ্রতি |
|---|---|
| টুরিস্ট ভিসা, ৬০ দিন (সঙ্গে ৫% ভ্যাট ও ২০ দিরহাম সরকারি চার্জ)অনলাইনে দিতে হয় | AED ৩০০ |
| ফ্লাইনেক্সট সার্ভিস ফিফ্লাইনেক্সটকে দিতে হয় | জিজ্ঞাসা করুন |
৯৬ ঘণ্টার ট্রানজিট ভিসা (এমিরেটস হলিডেজ)
| ফি | জনপ্রতি |
|---|---|
| ট্রানজিট ভিসা (সঙ্গে এয়ারলাইনের সার্ভিস ফি) | AED ৫০ |
| ফ্লাইনেক্সট সার্ভিস ফিফ্লাইনেক্সটকে দিতে হয় | জিজ্ঞাসা করুন |
দুবাই (সংযুক্ত আরব আমিরাত) ভিসার আবেদন কীভাবে করব?
- ১
স্পনসর বেছে নিন
আমিরাতের টুরিস্ট ভিসায় একজন স্পনসর লাগে: যে এয়ারলাইনে যাচ্ছেন (এমিরেটস, ফ্লাইদুবাই, ইতিহাদ), লাইসেন্সপ্রাপ্ত ট্রাভেল এজেন্সি বা ট্যুর অপারেটর, অথবা আপনার হোটেল। আমিরাতে থাকা আত্মীয় বা বন্ধুও ভিজিট ভিসা স্পনসর করতে পারেন, যদি তার আয় যথেষ্ট হয় (বাবা-মা, স্বামী/স্ত্রী বা সন্তানের জন্য মাসে ৪,০০০ দিরহাম)।
- ২
রিটার্ন টিকিট ও আসল হোটেল বুক করুন
বাংলাদেশি যাত্রীদের কনফার্ম রিটার্ন টিকিট থাকতে হবে। যেখানে সত্যিই থাকবেন সেখানে বুকিং দিন এবং আমিরাতে বৈধ স্বাস্থ্য বীমা কিনুন।
- ৩
আবেদন জমা দিয়ে ফি পরিশোধ করুন
স্পনসর পাসপোর্টের কপি, ছবি, টিকিট ও বীমা আপলোড করে ভিসা ফি ও নিজস্ব চার্জ পরিশোধ করে। ভিসা না হলে ফি ফেরত দেওয়া হয় না।
- ৪
অপেক্ষা করুন, ফেরতযোগ্য নয় এমন খরচ এখনই করবেন না
অফিসিয়ালি ৪৮ ঘণ্টা লাগে, কিন্তু বাংলাদেশের ফাইলে প্রায়ই বেশি সময় লাগে বা কারণ ছাড়াই প্রত্যাখ্যাত হয়। ভিসা অনুমোদন না হওয়া পর্যন্ত টিকিট ও হোটেল পরিবর্তনযোগ্য রাখুন।
- ৫
প্রিন্ট করা কাগজ নিয়ে ভ্রমণ করুন
প্রিন্ট করা ই-ভিসা, রিটার্ন টিকিট, হোটেল বুকিং ও বীমার কাগজ সঙ্গে রাখুন। ভিসার মেয়াদ শেষের আগেই ফিরে আসুন; বেশি দিন থাকলে প্রতিদিন ৫০ দিরহাম জরিমানা।
ঢাকায় কোথায় আবেদন করব?
সংযুক্ত আরব আমিরাত দূতাবাস, ঢাকা
বাড়ি ১৯১, রোড ৬৯, গুলশান নর্থ অ্যাভিনিউ, গুলশান ২, ঢাকা ১২১২
টুরিস্ট ভিসার আবেদন দূতাবাসে নয়, স্পনসরের মাধ্যমে অনলাইনে হয়। দূতাবাস খোলা সকাল ৯টা–বিকেল ৪টা, শুক্র ও শনিবার বন্ধ। ফোন +৮৮০ ২ ২২২২ ৮৪২৯, dhakaemb@mofa.gov.ae।
দুবাই (সংযুক্ত আরব আমিরাত) ভিসার আবেদন কেন প্রত্যাখ্যাত হয়?
কারণ না জানিয়ে প্রত্যাখ্যান
যা করলে সুবিধা হয়: আমিরাত কারণ প্রকাশ করে না, আর ২০২৪ থেকে অনেক বাংলাদেশি আবেদন প্রত্যাখ্যাত বা আটকে আছে। সম্পূর্ণ ও আসল কাগজ দিয়ে আবেদন করুন, আর পরিবর্তন করা যায় না এমন খরচ আগে করবেন না।
ভুয়া হোটেল বুকিং বা কাগজপত্র
যা করলে সুবিধা হয়: স্পনসর ও ইমিগ্রেশন বুকিং যাচাই করে। নিজের নামে আসল রিজারভেশন দিন।
ভিজিট ভিসায় কাজ খোঁজার আশঙ্কা
যা করলে সুবিধা হয়: ভিজিট ভিসায় কাজ করা যায় না। ছুটি বা পারিবারিক ভ্রমণের স্পষ্ট উদ্দেশ্য, দেশে চাকরি বা ব্যবসার প্রমাণ এবং রিটার্ন টিকিট দেখান।
আগে মেয়াদের বেশি থাকার রেকর্ড
যা করলে সুবিধা হয়: আগে বেশি দিন থাকার রেকর্ড নতুন আবেদনে বিরূপ প্রভাব ফেলে। সবসময় ভিসার মেয়াদ শেষের আগে ফিরে আসুন।
পাসপোর্টের মেয়াদ ৬ মাসের কম
যা করলে সুবিধা হয়: আবেদনের আগে পাসপোর্ট নবায়ন করুন।
দুবাই (সংযুক্ত আরব আমিরাত) ভিসা নিয়ে মানুষ আর কী জানতে চায়?
আবেদন করা যায় এবং আমিরাত কোনো নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেনি, তবে ২০২৪ থেকে বাংলাদেশিদের ভিসা অনুমোদন সীমিত ও অনিশ্চিত। মে ২০২৫-এ আমিরাত দূতাবাস জানিয়েছিল, তারা দিনে ৩০ থেকে ৫০টি ভিজিট ভিসা দিচ্ছে। সম্পূর্ণ কাগজপত্র দিয়ে আবেদন করুন, আর ভিসা অনুমোদন না হওয়া পর্যন্ত ফেরতযোগ্য নয় এমন টিকিট বা হোটেল কিনবেন না।
দুবাইয়ের GDRFA-এর অফিসিয়াল ফি ৩০ দিনের টুরিস্ট ভিসার জন্য ২০০ দিরহাম আর ৬০ দিনের জন্য ৩০০ দিরহাম, সঙ্গে ৫% ভ্যাট ও ২০ দিরহাম সরকারি চার্জ। এয়ারলাইন, এজেন্সি ও হোটেল নিজস্ব স্পনসর চার্জ যোগ করে, তাই টাকায় মোট খরচ এর চেয়ে বেশি পড়ে। ভিসা না হলে ফি ফেরত দেওয়া হয় না।
হ্যাঁ, যদি তিনি আমিরাতের বাসিন্দা হন এবং তার আয় যথেষ্ট থাকে। ICP-এর নিয়মে বাবা-মা, স্বামী/স্ত্রী বা সন্তানের মতো প্রথম স্তরের আত্মীয়কে স্পনসর করতে মাসিক বেতন অন্তত ৪,০০০ দিরহাম, দ্বিতীয় বা তৃতীয় স্তরের আত্মীয়ের জন্য ৮,০০০ দিরহাম আর বন্ধুর জন্য ১৫,০০০ দিরহাম লাগে। স্পনসর ICP বা GDRFA-এর মাধ্যমে আবেদন করেন।
হ্যাঁ। টুরিস্ট বা ভিজিট ভিসায় যাওয়া বাংলাদেশি যাত্রীদের দুবাইয়ের বিমানবন্দরে কনফার্ম রিটার্ন টিকিট দেখাতে হয়, আর ঢাকায় চেক-ইনের সময়ই এয়ারলাইন তা যাচাই করে, কারণ প্রবেশ করতে না দেওয়া যাত্রীকে ফেরত আনার দায় এয়ারলাইনের। হোটেল বুকিং ও বীমার কাগজও সঙ্গে রাখুন।
টুরিস্ট বা ভিজিট ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর প্রতিদিনের জন্য ICP ৫০ দিরহাম জরিমানা করে, আর মেয়াদের বেশি থাকার রেকর্ড থাকলে ভবিষ্যতে ভিসা পাওয়া অনেক কঠিন হয়ে যায়। বেশি সময় লাগলে মেয়াদ শেষের আগেই আমিরাতের ভেতর থেকে ভিসা বাড়িয়ে নিন; টুরিস্ট ভিসা সব মিলিয়ে ১২০ দিন পর্যন্ত বাড়ানো যায়।
ট্রানজিট ভিসা শুধু এয়ারলাইনের মাধ্যমে দেওয়া হয়। আগস্ট ২০২৬ থেকে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, তুরস্ক, মিসর, জর্ডান, মরিশাস বা ওমরাহর পথে থাকা বাংলাদেশি যাত্রীদের এমিরেটস নির্দিষ্ট এমিরেটস হলিডেজ প্যাকেজের সঙ্গে দুবাইয়ে ৯৬ ঘণ্টার ভিসা দিচ্ছে। দুই ফ্লাইটের মাঝে বিমানবন্দরের ভেতরে থাকলে ভিসা লাগে না।
না। ভিসা দেওয়া হবে কিনা, সেই সিদ্ধান্ত নেয় কেবল দূতাবাস, হাইকমিশন বা ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। তাই কোনো এজেন্সিই সৎভাবে ভিসার গ্যারান্টি দিতে পারে না। আমরা নিশ্চিত করি যে আপনার ফাইল সম্পূর্ণ, তথ্যগুলো একটার সঙ্গে আরেকটা মেলে এবং অফিসিয়াল চেকলিস্ট অনুযায়ী সাজানো, যাতে প্রত্যাখ্যানের সাধারণ কারণগুলো এড়ানো যায়। বাড়তি টাকার বিনিময়ে “গ্যারান্টি ভিসা”র প্রতিশ্রুতি দিলে সতর্ক থাকুন।
হ্যাঁ। প্রত্যাখ্যানের চিঠি (রিফিউজাল লেটার) আর আগে জমা দেওয়া কাগজপত্র আমাদের পাঠান। দূতাবাস যে কারণ দেখিয়েছে, যেমন আর্থিক প্রমাণ দুর্বল, ভ্রমণের উদ্দেশ্য অস্পষ্ট বা কাগজ অসম্পূর্ণ, সেটি ঠিক করে তারপর নতুন আবেদন করা হয়। একই ফাইল দিয়ে আবার আবেদন করলে ফলাফল সাধারণত একই হয়। আবেদন ফর্মে জানতে চাইলে আগের রিফিউজালের কথা অবশ্যই উল্লেখ করুন; গোপন করলে দীর্ঘ মেয়াদে নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে।
দূতাবাসের নিয়ম যেকোনো সময় বদলাতে পারে। আবেদনের আগে সর্বশেষ চেকলিস্ট নিশ্চিত করতে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।



