বাংলাদেশ থেকে উমরাহ ভিসা: কাগজপত্র, বায়োমেট্রিক ও এক বছরের ভিসা
বাংলাদেশিরা কীভাবে উমরাহ ভিসা পান: নিবন্ধিত এজেন্সির মাধ্যমে আবেদন, ১৫, ৩০ ও ৮০ দিনের অবস্থান, Saudi Visa Bio-তে আঙুলের ছাপ, মেনিনজাইটিস টিকা, নুসুক বুকিং এবং এক বছরের মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা।
লিখেছেন রাকিবুল হাসানপ্রকাশিতহালনাগাদ ৪ মিনিটে পড়ুন

বাংলাদেশিরা নিজে নিজে উমরাহ ভিসার আবেদন করতে পারেন না। এটি ইস্যু হয় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধিত হজ ও ওমরাহ এজেন্সির মাধ্যমে, যারা সৌদি লাইসেন্সপ্রাপ্ত উমরাহ কোম্পানির কাছে আবেদন জমা দেয়। পূর্ণ নিয়ম, ফি ও তথ্যসূত্র আছে আমাদের সৌদি আরব ভিসা পেজে; এই গাইডে ধাপে ধাপে বলা হলো আপনাকে আসলে কী করতে হবে।
⚠️ আগে লাইসেন্স যাচাই করুন। হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনা আইন ২০২১ অনুযায়ী কেবল নিবন্ধিত এজেন্সিই উমরাহর ব্যবস্থা করতে পারে। টাকা দেওয়ার আগে লাইসেন্স নম্বর চেয়ে নিন এবং মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত তালিকায় মিলিয়ে দেখুন।
এক বছরের মাল্টিপল এন্ট্রি উমরাহ ভিসা
২০২৬ সালের জুলাইয়ে সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় এমন একটি উমরাহ ভিসা চালু করে, যা ইস্যুর তারিখ থেকে ৩৬৫ দিন বৈধ এবং একাধিকবার যাওয়ার সুযোগ দেয়। বাংলাদেশের অনেক এজেন্সি এখন একেই “এক বছরের মাল্টিপল উমরাহ ভিসা” বলে প্রচার করে। তিনটি বিষয় মনে রাখা জরুরি:
- ৩৬৫ দিন ভিসার মেয়াদ, আপনার অবস্থানের সময় নয়: সারা বছর মিলিয়ে সৌদি আরবে থাকা যাবে সর্বোচ্চ ৯০ দিন।
- প্রতিবার প্রবেশের জন্য নুসুক-অনুমোদিত সেবাদাতার কাছ থেকে আলাদা সার্ভিস প্যাকেজ এবং নুসুক অ্যাপে উমরাহ পারমিট নিতে হয়।
- হজ মৌসুমে এই ভিসা ব্যবহার করা যায় না, আর প্রত্যেক উমরাহযাত্রীকে মৌসুমের নির্ধারিত তারিখের আগেই দেশে ফিরতে হয়।
কত দিন থাকা যাবে: ১৫, ৩০ না ৮০ দিন
উমরাহ ভিসা দেওয়া হয় নির্দিষ্ট সময়ের অবস্থানের জন্য, আর এজেন্সি আবেদন করার আগেই আপনাকে তা বেছে নিতে হয়। অবস্থানের হিসাব শুরু হয় পৌঁছানোর দিন থেকে; তাই গ্রুপের ফেরার ফ্লাইটের সঙ্গে কয়েক দিন হাতে রেখে বেছে নিন।
অবস্থান | কাদের জন্য উপযোগী |
১৫ দিন | সাধারণ ১০–১৫ দিনের গ্রুপ প্যাকেজ: মক্কা, মদিনা ও দুই শহরের জিয়ারত |
৩০ দিন | বেশি সময় থাকা, পরিবার নিয়ে একসঙ্গে যাওয়া বা রমজান |
৮০ দিন (রিকোয়েস্ট) | দীর্ঘ সময় থাকার জন্য: নিজের রিকোয়েস্টে আবেদন, ৮০ দিনের মধ্যে ফেরার কনফার্ম টিকিটসহ; ভিসা পাওয়া নিশ্চিত |
৮০ দিন (নন-রিকোয়েস্ট) | একই ৮০ দিনের অবস্থান, সাধারণ নিয়মে ইস্যু—ওই রিকোয়েস্ট বা নির্দিষ্ট রিটার্ন টিকিটের শর্ত ছাড়া |
এগুলোর বাইরে সৌদি আরবের এক বছরের মাল্টিপল এন্ট্রি উমরাহ ভিসায় ৩৬৫ দিনের মধ্যে একাধিকবার যাওয়া যায়, তবে সারা বছর মিলিয়ে সৌদি আরবে থাকা যায় মোট ৯০ দিন। মৌসুমভেদে সুযোগ বদলায়, তাই টাকা দেওয়ার আগে এজেন্সির কাছে জেনে নিন আপনার তারিখে কোন অপশনটি খোলা আছে।
কাগজপত্র
কাগজ | বিস্তারিত |
পাসপোর্ট | অন্তত ৬ মাস মেয়াদ |
ছবি | সাম্প্রতিক, সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড |
টিকা | মেনিনগোকক্কাল ACYW সনদ, পৌঁছানোর অন্তত ১০ দিন আগে নেওয়া, ১ বছর ও তার বেশি বয়সী সবার জন্য |
বায়োমেট্রিক | Saudi Visa Bio অ্যাপে আঙুলের ছাপ ও ছবি নিবন্ধন |
বুকিং | ভিসা ইস্যুর আগে এজেন্সির মাধ্যমে নুসুকে হোটেল ও যাতায়াত নিশ্চিত |
টিকিট | রিটার্ন বিমান টিকিট, ভিসা ও মৌসুম শেষের আগে ফেরার তারিখে |
ধাপগুলো ক্রম অনুযায়ী
- নিবন্ধিত এজেন্সি বেছে নিন এবং প্যাকেজ, হোটেল ও হারাম থেকে দূরত্ব লিখিতভাবে নিশ্চিত করুন।
- মেনিনগোকক্কাল ACYW টিকা নিন এবং সনদ সংরক্ষণ করুন।
- Saudi Visa Bio অ্যাপে আঙুলের ছাপ ও ছবি নিবন্ধন করুন।
- এজেন্সি নুসুকে হোটেল ও যাতায়াতের প্যাকেজ বুক করে বাধ্যতামূলক বীমাসহ ভিসার আবেদন করে।
- ই-ভিসা পাওয়ার পর ইস্যুর ৩০ দিনের মধ্যে সৌদি আরবে প্রবেশ করুন।
- নুসুক অ্যাপে উমরাহ পারমিট এবং মদিনায় রওজা জিয়ারতের সময় বুক করুন।
কারা যেতে পারবেন
হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের নিয়মে ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী নারীরা সংগঠিত গ্রুপের সঙ্গে গেলে মাহরাম ছাড়াই উমরাহ করতে পারেন। শিশুদের বাবা-মা বা অভিভাবকের সঙ্গে যেতে হয়। বয়সের সর্বোচ্চ সীমা নেই, তবে বয়স্কদের জন্য হারামের কাছের হোটেল বেছে নেওয়া এবং কোনো শারীরিক সমস্যা থাকলে এজেন্সিকে আগেই জানানো ভালো।
যেসব কারণে ভিসা দেরি হয় বা বাতিল হয়
- Saudi Visa Bio-তে আঙুলের ছাপ নিবন্ধন না করা।
- নুসুকে হোটেল ও যাতায়াতের কনফার্ম বুকিং না থাকা।
- পাসপোর্টের মেয়াদ ৬ মাসের কম থাকা।
- আগে সৌদি আরবে মেয়াদের বেশি থাকার রেকর্ড, যা ভবিষ্যতের ভিসাও আটকে দেয়।
- বৈধ নিবন্ধন নেই এমন এজেন্সি, যারা আবেদনই জমা দিতে পারে না।
কবে শুরু করবেন, কত সময় লাগে
এজেন্সি সৌদি কোম্পানির মাধ্যমে ভিসার আবেদন করে, আর নুসুকে হোটেল ও যাতায়াতের বুকিং নিশ্চিত হওয়ার পরই ভিসা ইস্যু হয়; তাই সময় নির্ভর করে আপনার গ্রুপের যাত্রার তারিখের ওপর। ছয় থেকে আট সপ্তাহ আগে শুরু করুন: টিকা নিতে হয় পৌঁছানোর অন্তত ১০ দিন আগে, বায়োমেট্রিকে একদিন যায়, আর পাসপোর্টে অন্তত ছয় মাস মেয়াদ থাকতে হয়। রমজানে চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে, তখন আরও আগে শুরু করুন।
কখন | কী হয় |
৬–৮ সপ্তাহ আগে | এজেন্সি ও প্যাকেজ নির্বাচন, লাইসেন্স যাচাই, অগ্রিম জমা |
৪–৬ সপ্তাহ আগে | মেনিনগোকক্কাল ACYW টিকা, পাসপোর্ট যাচাই, ছবি |
৩–৪ সপ্তাহ আগে | Saudi Visa Bio-তে আঙুলের ছাপ, নুসুকে হোটেল ও যাতায়াতের বুকিং |
১–৩ সপ্তাহ আগে | ভিসা ইস্যু, গ্রুপ ব্রিফিং, বিমান টিকিট নিশ্চিত |
ইস্যুর ৩০ দিনের মধ্যে | যাত্রা: সময়মতো প্রবেশ না করলে ভিসা বাতিল হয়ে যায় |
ভিসার পর যেসব পারমিট লাগবে
ভিসা আপনাকে সৌদি আরবে প্রবেশের সুযোগ দেয়; এরপরের সবকিছু চলে নুসুক অ্যাপে। প্রতিবার উমরাহর আগে নির্দিষ্ট সময়সহ উমরাহ পারমিট এবং মদিনায় আলাদা রওজার স্লট বুক করতে হয়, যা সাধারণত ৩৬৫ দিনে একবার পাওয়া যায়। দুটিই বিনা খরচে। যাত্রার আগেই নুসুক ডাউনলোড করে রেজিস্ট্রেশন সেরে নিন; হোটেলের ওয়াই-ফাইয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে এসব করা কঠিন।
খরচ ও এজেন্সিকে যা জিজ্ঞেস করবেন
সৌদি আরব উমরাহ ভিসার ফি প্রকাশ করে না, তাই এজেন্সির কাছ থেকে লিখিত হিসাব চেয়ে নিন: ভিসা ও বীমা, হোটেল ও হারাম থেকে দূরত্ব, খাবার, যাতায়াত ও জিয়ারত, আর কী কী অন্তর্ভুক্ত নয়। আমাদের ১৪ দিনের উমরাহ প্যাকেজে জনপ্রতি ১,৪০,০০০ টাকায় এসবই উল্লেখ করা আছে, আর সফরের গাইডে পৌঁছানোর পর দিনগুলো কেমন কাটে তা বিস্তারিত বলা আছে।
মেয়াদের বেশি থাকার খেসারত অনেক বড়: সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৫০,০০০ রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা, কারাদণ্ড ও দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা নিতে পারে, আর ভবিষ্যতে সৌদি ভিসা পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। গ্রুপের সঙ্গে থাকুন এবং নির্ধারিত ফ্লাইটেই ফিরুন।
সৌদি আরব (ওমরাহ) ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন?
কী কী লাগবে তা আমাদের সৌদি আরব (ওমরাহ) ভিসা গাইডে দেখে নিন, অথবা হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দিন — আবেদনে আমরা সাহায্য করব।



